আড়াইহাজারে প্রথম বারের মতো এক ও অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৪:০৯

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় মাধ্যমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে শুরু হয়েছে এক নতুন অধ্যায়। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন স্কুলে একটি “প্রশ্নপত্র সিন্ডিকেট” চালু ছিল। ওই সিন্ডিকেট থেকে প্রশ্ন কিনে এনে পরীক্ষা নেওয়া হতো। এতে শিক্ষার মান প্রশ্নবিদ্ধ হওয়াসহ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অনীহা তৈরি হয়। কিন্তু এবার সেই প্রথা ভেঙে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শুরু হয়েছে এক ও অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার প্রক্রিয়া।

উপজেলা মাধ্যমিক অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৩৪টি জেনারেল স্কুল ও ৪টি ভোকেশনাল (কারিগরি) স্কুলে সপ্তম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত অর্ধবার্ষিক ও বার্ষিক পরীক্ষায় এই অভিন্ন প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হবে। এরই অংশ হিসেবে গঠন করা হয়েছে একটি কমিটি। এর সভাপতি ইউএনও, সদস্য সচিব উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলার সব প্রধান শিক্ষক প্যানেল ভিত্তিক সদস্য হিসেবে রয়েছেন। 

কমিটির কার্যপ্রণালী অনুযায়ী, প্রতিটি স্কুল থেকে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকরা প্রশ্ন প্রণয়ন করে জমা দেবেন কমিটির কাছে। পরে কমিটির সভাপতি ইউএনও সব প্রশ্ন যাচাই-বাছাই করে মানসম্মত ও গ্রহণযোগ্য প্রশ্ন নির্বাচন করবেন। এতে এককভাবে কোনো শিক্ষক বা কোনো স্কুল প্রশ্নপত্র নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।

মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপার ভাইজার মো. শাহজাহান জানান, আগে এসব স্কুলে সমিতি থেকে প্রশ্ন কিনে আনা হতো। অনেক ক্ষেত্রেই প্রশ্ন সহজ, গাইড বই নির্ভর এবং পুনরাবৃত্তিমূলক হওয়ায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার বদলে গাইড মুখস্থ করেই পরীক্ষায় অংশ নিত। এতে প্রকৃত শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছিল। এ সিন্ডিকেট-নির্ভর ব্যবস্থাকে ‘শিক্ষার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর’ আখ্যায়িত করে এর অবসান ঘটানো হয়েছে। আড়াইহাজার উপজেলার অভিভাবকরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

স্থানীয় এক অভিভাবক বলেন, এখন থেকে সন্তানদের গাইড বই কিনে দিলেই হবে না। তাদের আসল বই পড়তে হবে। এতে প্রকৃত শিক্ষা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাজ্জাত হোসেন বলেন, শিক্ষাকে কোনো সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি রাখা যাবে না। শিক্ষার্থীরা মুখস্থ নির্ভর না হয়ে পড়াশোনায় মনোযোগী হোক, আমরা সেটা চাই। এ কারণে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট কোনো গাইড বা কোচিংয়ের ওপর নির্ভর করতে পারবে না। তারা মূল পাঠ্যবই পড়তে বাধ্য হবে। আমরা বিশ্বাস করি, এ উদ্যোগে শিক্ষার মান অনেক উন্নত হবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি