তালায় চার দফা দাবিতে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের অনির্দিষ্টকালের গণছুটি

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৭:০৬

চার দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য গণছুটি পালন করছেন সাতক্ষীরার তালা পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে তারা এই কর্মবিরতি শুরু করলে অফিসের সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়, ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েন গ্রাহকরা।

সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অফিসের প্রধান ফটক তালাবদ্ধ। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিস চত্বরে অবস্থান নেন। এসময় বিদ্যুৎ সংক্রান্ত জরুরি সেবা নিতে আসা অনেক গ্রাহক ফিরে যেতে বাধ্য হন। 

কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যুৎ অফিস বন্ধ থাকায় আমাদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। কারো মিটার নষ্ট, কারো বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত জটিলতা, আবার অনেকের নতুন সংযোগের কাজ ঝুলে গেছে।

পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা চলছে। কিন্তু আমাদের দাবি মানা তো দূরের কথা, উল্টো অন্যায়ভাবে বরখাস্ত, বদলি ও চাকরিচ্যুতি করা হচ্ছে। এতে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
কর্মরতদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- ১. অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত ও বরখাস্তদের পুনর্বহাল, ২. অব্যবস্থাপনার অবসান, ৩. বদলির নামে হয়রানি বন্ধ, ৪. দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।

তালা উপজেলা নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ অফিসের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সাধারণ গ্রাহকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত সমস্যা সমাধানে আলোচনা জরুরি।

তালা সাব-জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) সাধন কুমার মণ্ডল জানান, চার দফা দাবিতে আমরা গণছুটিতে রয়েছি। এই কর্মসূচি সাতক্ষীরার প্রতিটি সাব-জোনে একযোগে পালিত হচ্ছে।

এর আগে, শুক্রবার বিকেলে সাতক্ষীরা পাটকেলঘাটা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কার্যালয়ের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাতক্ষীরা জেলার সব সাব-জোন ও সদর দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই গণছুটির ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পাটকেলঘাটা অফিসের এজিএম সাধন কুমার দাস।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা জেলায় বর্তমানে প্রায় ৬ লাখ ৩০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। অফিসগুলোর কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এই বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের সেবায় ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটছে।

ইত্তেফাক/এএইচপি