ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে বাঁশের সাঁকোর বেহাল দশা, বিপাকে ৮ গ্রামের মানুষ

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৭:৩৩

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের দক্ষিণ চরআলগী সড়কে বাঁশের সাঁকোর বেহাল অবস্থায় দুর্ভোগে পড়েছেন দুই ইউনিয়নের আট গ্রামের মানুষ। ঝুঁকিপূর্ণ এ সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন।

গত ৩০ মে প্রবল বর্ষণে দক্ষিণ চরআলগীর বটতলা এলাকায় সড়ক ভেঙে ব্রহ্মপুত্র নদে বিলীন হয়ে যায়। পরে উপজেলা প্রশাসন স্থানীয়দের সহায়তায় বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করলেও তিন মাস না যেতেই তা নড়বড়ে হয়ে পড়ে। এর ফলে মরিচারচর উচ্চ বিদ্যালয়, উচাখিলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কেরামতিয়া আলীম মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।

আলীনগর কারিগরি ও বাণিজ্যিক কলেজের শিক্ষার্থী নুর হাসান বলেন, নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন মানুষ। ভাঙনের কারণে উচাখিলা বাজার থেকে মরিচারচর চুমকির বাজার পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে ফলে যাত্রীদের পরিবহন বদল করে চলতে হচ্ছে।

স্থানীয় অটোচালক সুমন মিয়া বলেন, ভাঙা সড়ক ও নড়বড়ে সাঁকোর কারণে চরাঞ্চলে অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করতে পারে না। এতে রোগী পরিবহনে চরম সমস্যা হচ্ছে।

কৃষক সামছুল হক অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা যুগ যুগ ধরে নদীভাঙন ও সড়ক ভাঙনের শিকার। উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করতেও দুর্ভোগ পোহাতে হয়।’

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রুমা আক্তার জানান, প্রতিদিনই এই সাঁকোর উপর দিয়ে স্কুল কলেজের শতশত শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করে থাকে। গত ২৮ আগস্ট পাঁচ বছরের শিশু তন্বী আক্তার সাঁকো থেকে পড়ে আহত হয়।

উচাখিলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হাসান খান সেলিম বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ ২০২৩ সালে এখানে একটি স্টিলের বেইলি ব্রিজ নির্মাণের জন্য মালামাল এনেছিল। কিন্তু জমি নিয়ে বিরোধ থাকায় স্থানীয়রা বাধা দেন। পরে বর্ষণে রাস্তা ভেঙে গেলে আবার দুর্ভোগে পড়ে মানুষ।

ময়মনসিংহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোফাখখারুল ইসলাম তুহিন জানান, ‘এলাকাবাসী বেইলি ব্রিজ করতে দেয়নি। এতে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। নতুন করে স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে।’

ইত্তেফাক/এসজেএস/এমএএস