বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মামলার আসামি ও আওয়ামী লীগ নেতা উত্তম কুমার ভক্তকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানী কলাবাগান এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। কলাবাগান থানার ওসি মো. ফজলে আশিক এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কলাবাগান থানাধীন ২য় লেন এলাকায় একটি দোকান থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে আসামি উত্তম কুমার ভক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্রজনতার উপর গুলি ও হামলার মাধ্যমে হত্যা চেষ্টা মামলায় রুজু হয়। সেই মামলায় ১৪ নং আসামি হিসেবে তার নাম রয়েছে। তিনি কলাবাগান থানার ১৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়।
এদিকে কলাবাগান থানার যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান খান রাজিব জানান, তিনি প্রথমে আওয়ামী লীগ নেতা উত্তম কুমারকে কলাবাগান ২য় লেনে একটি রেফ্রিজারেটরের দোকানে দেখতে পান। তিনি সেখানে উপস্থিত থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশকে খবর দেন। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তথ্য যাচাই বাছাই করে তাকে গ্রেপ্তার করে।
রাজিব আরও বলেন, তিনি সম্প্রতি ধানমন্ডি এলাকায় আওয়ামীলীগের বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্বে ছিলেন এবং আওয়ামীলীগকে সুসংগঠিত করার কাজ করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
মামলায় এজহারে বলা হয়, একটি সশস্ত্র ঝটিকা মিছিল পিস্তল, শটগান, রিভলবারসহ বিভিন্ন রকমের আগ্নেয়াস্ত্র এবং বৈঠা ও বিভিন্ন দেশীয় ধারালো ও ভোঁতা অস্ত্র উঁচিয়ে পান্থপথের দিকে আসামীর নির্দেশে ও নেতৃত্বে তাৎক্ষণিকভাবে উক্ত আসামিরা 'জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে আন্দোলনরতদের ওপর একযোগে হামলা করে। এলোপাথাড়ি গুলি করে এবং রামদা, চাপাতি ও হকিস্টিক দিয়ে বেধড়ক মারপিট এবং কোপাতে থাকে। এসময় আসামীদের গুলিতে আন্দোলনরতদের মধ্যে থেকে এজাহারকারীসহ অনেকেই মারাত্মক, রক্তাক্ত জখম প্রাপ্ত হয়। এই সময় এজাহারকারীর ডান হাতের কনুইয়ের নিকট সন্ত্রাসীদের ছোড়া একটি গুলি বিদ্ধ হয়। আসামিদের এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণ এবং বেধড়ক কোপানো ও মারপিটে জখমপ্রাপ্ত হয়ে এজাহারকারীর সহযোগী আন্দোলনকারীরা জীবন বাঁচাতে এলোমেলোভাবে যে যার মতো করে ছোটাছুটি করে চলে যায়।
কলাবাগান থানা শ্রমিক দল সাবেক প্রচার সম্পাদক মোঃ সুমন (৪৩) নামে এক নেতা এই মামলা রুজু করেন। মামলার এজহারে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, ঢাকা ১০ আসনের সাবেক এমপি চিত্রনায়ক ফেরদৌস, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নুর তাপস সহ একাধিক স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাকে আসামি করা হয়। এছাড়াও এজাহারনামীয় আসামীসহ আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রায় ৩০০/৪০০ জনের কথা উল্লেখ করা হয়।

