নাটোরের লালপুর উপজেলার গোপালপুর ডাকঘরটি দীর্ঘদিন ধরেই জরাজীর্ণ ভবনে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার চিত্র এতটাই প্রকট যে, ছাদ থেকে পানি পড়া ঠেকাতে ছাদে টানানো হয়েছে পলিথিন। এতে ডাক বিভাগের কর্মীরা অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
অনলাইন কার্যক্রম চালু রাখার মতো প্রযুক্তিগত পরিবেশ না থাকায় অর্থ লেনদেনসহ বিভিন্ন সেবা বর্তমানে ব্যাঙ্কের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এতে গ্রাহকরা বঞ্চিত হচ্ছেন প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী সেবা থেকে।
ডাকঘর সূত্রে জানা গেছে, একজন পোস্ট মাস্টার, দুইজন ডাক পিয়ন, একজন ক্লার্ক ও দুইজন চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী নিয়ে কোনো রকমে চলছে ডাকঘরের কার্যক্রম। এখানে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে মানি অর্ডার ও ই-মনি অর্ডার চালু থাকলেও অনলাইন ট্রান্সেকশন, ডাকঘর ব্যাংকিং, ও অন্যান্য আধুনিক সেবা বন্ধ রয়েছে। জিইপি (গ্রান্টেড এক্সপ্রেস পোস্ট) সেবাও সীমিত আকারে চালু রয়েছে।
সবশেষ, দেড় বছর আগে নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হলেও অজ্ঞাত কারণে তা থেমে যায়। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, ভবনের পেছনে তিনটি কলামের বেইজ ঢালাই দিয়ে রড খাড়া করেই কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন ঠিকাদার। লতাপাতায় ছেয়ে গেছে ভবনের চারপাশ। রডে ধরেছে মরিচা। ডাকঘর সংলগ্ন পোস্ট মাস্টারের বাসভবনের দরজা-জানালাও ভেঙে পড়েছে। পেছনের দরজা ইট দিয়ে ঠেস দিয়ে রাখা হয়েছে নিরাপত্তার জন্য।
ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে পালিয়ে গেছেন বলে ধারণা স্থানীয়দের। তাদের দাবি, তৎকালীন সরকারের আমলে চাঁদাবাজদের চাপ সামলাতে না পেরে নির্মাণকাজ ফেলে চলে যান ঠিকাদার। নির্মাণ সামগ্রী এখনো ডাকঘরের সামনে পড়ে আছে, কিন্তু সংশ্লিষ্ট কেউই ঠিকাদারের নাম বা যোগাযোগের তথ্য জানেন না।
ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার ইসমাইল হোসেন বলেন, ভবনটির করুণ অবস্থার কথা আমরা বহুবার জানিয়েছি। পশ্চিমাঞ্চল (রাজশাহী) ডাক বিভাগের ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেল মো. নাইমুর রহমান গত জুনে এখানে পরিদর্শনে এসে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
তিনি জানান, বর্তমানে এই ডাকঘরে ডাক বিভাগের অন্তত ১৮টি সেবা চালু আছে, কিন্তু ভবনের দুরবস্থার কারণে স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন, ডাকঘরের এ অবস্থা একপ্রকার অব্যবস্থাপনার প্রতিচ্ছবি। তারা দ্রুত ভবন নির্মাণ সম্পন্ন ও আধুনিক অনলাইন সেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন।
