অবশেষে ৪১ ঘণ্টা পর রাজশাহী-ঢাকা রুটে যাত্রী কোচ চলাচল শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে রাজশাহী জেলা মোটর (পরিবহণ) শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রফিক আলী পাখি যাত্রী কোচ চলাচল শুরুর ঘোষণা দেন।
এর আগে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে রবিবার রাত ৯টায় ঢাকার সঙ্গে রাজশাহীর যাত্রী কোচ চলাচল বন্ধ করেন মোটর শ্রমিকেরা। রফিক আলী পাখি জানান, মালিকপক্ষ বেতন বৃদ্ধির আশ্বাস দিয়েছে। তবে তারা আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় নিয়েছে। এই আশ্বাসের ভিত্তিতেই আপাতত কোচ চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহী-ঢাকা রুটে চালক, সুপারভাইজার ও সহকারীদের বেতন অপ্রতুল। প্রায় এক দশক ধরে প্রতি ট্রিপে চালক পান ১ হাজার ১০০ টাকা, সুপারভাইজার ৫০০ টাকা এবং চালকের সহকারী পান ৪০০ টাকা। উপরন্তু প্রতিদিন চালক, সুপারভাইজার ও সহকারীর ট্রিপ হয় না। মাসের ৩০ দিনে প্রত্যেকে গড়ে ১২/১৩ দিন ট্রিপ পান। ফলে ১২/১৩ দিনে যে সামান্য টাকা পান, তা দিয়ে বাড়ি ভাড়া ও সংসার চালানো যায় না।
বেতন বাড়ানোর দাবিতে রবিবার রাত ৯টা থেকে কোচ বন্ধ করে দেন শ্রমিকেরা। তবে পুরো সময় একতা ট্রান্সপোর্টের কোচগুলো চলাচল করেছে। সোমবার সারাদিনও একতা ছাড়া অন্য কোনো কোচ ঢাকা যায়নি। একতা কোচের চালক প্রতি ট্রিপে ১৮০০, সুপারভাইজার ৮০০ ও চালকের সহকারী ৭০০ টাকা বেতন পান। অন্য কোচের মালিকেরা বেতন দেন একতার অর্ধেকের সামান্য বেশি। যা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে শ্রমিকেরা জানান।
এদিকে ঢাকাগামী কোচ চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। তবে মূল সমস্যার সমাধান ছাড়াই শুধু আশ্বাসের ভিত্তিতে আবার স্বাভাবিক হলো ঢাকা রুটের কোচ চলাচল। এর আগেই কোচ মালিকরা একাধিকবার বেতন বৃদ্ধির আশ্বাস দিয়েও কথা রাখেননি বলে অভিযোগ করেন শ্রমিকেরা।
