পাইকগাছায় সড়কের বেহাল দশা, দেখার কেউ নেই

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৫:৩৬

খুলনার পাইকগাছা-কয়রা সড়কের বেহাল দশায় জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি এখন যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়, গর্তে আটকে পড়ে যানবাহন, বাড়ছে দুর্ঘটনা ও আর্থিক ক্ষতি। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যত নীরব।

সাতক্ষীরার তালার ১৮ মাইল থেকে খুলনার পাইকগাছা হয়ে কয়রার বেতগ্রাম পর্যন্ত প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটির উন্নয়ন কাজ চলছে অত্যন্ত ধীরগতিতে।

প্রকল্পটি প্রথম অনুমোদন পায় ২০২০ সালে একনেক সভায়। শুরুতে বরাদ্দ ছিল ৩৩৯ কোটি টাকা, যা তিন দফায় বাড়িয়ে ৫৩৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকায় উন্নীত হয়। প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত থাকলেও এখনও অর্ধেক কাজ শেষ হয়নি।

প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোজাহার এন্টারপ্রাইজ কার্যকর কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। অতীতে জমি অধিগ্রহণের জটিলতা ও মামলা-মোকদ্দমার কারণে কাজ দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পাইকগাছা পৌরসদরের ব্যস্ততম জিরো পয়েন্ট, নতুন বাজার, আগড়ঘাটা, গোলাবাড়ি, মুচির মোড় ও কপিলমুনি হাসপাতালসংলগ্ন প্রধান সড়কের অবস্থা ভয়াবহ। কোথাও কোথাও ২০০ থেকে ৩০০ মিটার পর্যন্ত সড়ক অসমাপ্ত পড়ে আছে। বৃষ্টির সময় হাঁটু সমান পানি জমে থাকে, তখন যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। শুকনো মৌসুমে ধুলাবালিতে, আর বর্ষায় কাদাপানিতে মানুষের চলাচল দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। সম্প্রতি জিরো পয়েন্টে একটি মালবাহী ট্রাক গর্তে পড়ে ২৭ ঘণ্টা আটকে ছিল।

স্থানীয় বাসমালিক শুভ সাধু বলেন, এই রুটে প্রতিদিন ৩০০-এর বেশি যানবাহন চলে। কিন্তু রাস্তায় বড় বড় গর্ত থাকায় দুর্ঘটনা লেগেই আছে। একসময় পাইকগাছা থেকে খুলনায় যেতে দেড় ঘণ্টা লাগত, এখন সময় লাগে সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা। জ্বালানির খরচ বেড়ে গেছে তিনগুণ।

বাস শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, এই রুটে যানবাহন চালাতে গিয়ে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হয়। গাড়ির ক্ষয়ক্ষতি ও জ্বালানির খরচে মালিকেরা লোকসানে পড়ছেন।

সড়কটির দুরবস্থার প্রভাব পড়েছে স্থানীয় অর্থনীতিতেও। পাইকগাছা ও কয়রার সঙ্গে খুলনার জেলা শহরের যোগাযোগ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় কৃষিপণ্য, মাছ ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনে সমস্যা হচ্ছে।

স্থানীয় এক যাত্রী রিয়াদ হোসেন বলেন, জেলা জজ আদালতে সময়মতো পৌঁছাতে পারব কি না সন্দেহ। সময়মতো না পৌঁছালে আমাকে আবার আসতে হবে।

পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহেরা নাজনীন বলেন, বাঁক সরলীকরণ ও জমি অধিগ্রহণের জটিলতার কারণে কাজ পিছিয়ে গেছে। বিষয়টি একাধিকবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সমাধান হবে।

উক্ত বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী, সওজ, সড়ক বিভাগ, খুলনার মো. তানিমুল হক জানান, বাঁক সরলীকরণের জন্য এই সড়কে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছিল তার কারণ জমি অধিগ্রহণের জটিলতা ছিল। আমরা জমি অধিগ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে গেলে তিনি বলছিলেন সড়কটি জনগুরুত্বপূর্ণ না বিধায় ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন নেই। পরে আমরা প্রায় একদুই বছর ধরে বুঝতে সক্ষম হয় যে এই সড়কটি জনগুরুত্বপূর্ণ তখন তিনি স্টিমেট দিছেন। এখন আমরা চেষ্টা করবো। অন্যান্য জায়গার কাজ শেষ। যেখানে ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা ছিল সেখানে কাজ বাকি আছে।

ইত্তেফাক/এএইচপি