নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে বাগেরহাট জেলার একটি সংসদীয় আসন কমিয়ে তিনটি করার প্রতিবাদে ঘোষিত ৪৮ ঘণ্টার সর্বাত্মক হরতালের প্রথম দিনেই অচল হয়ে পড়েছে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা।
বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই হরতালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা নির্বাচন অফিসের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন হরতালকারীরা।
সকাল থেকে সর্বদলীয় ঐক্যের নেতারা শরণখোলা উপজেলা পরিষদের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে সেখানে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন পঞ্চায়েত, সাধারণ সম্পাদক মোঃ বেল্লাল হোসেন মিলন, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মোঃ মোস্তফা আমীন, ইসলামী আন্দোলনের উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা মোঃ মুসা সাঈফীসহ আরও অনেক নেতাকর্মী।
বক্তারা বলেন, বাগেরহাট জেলার চারটি আসনের মধ্যে একটি আসন কমিয়ে দেওয়া মানে জনগণের রাজনৈতিক অধিকার ও উন্নয়ন প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করা। আমরা এই সিদ্ধান্ত মানি না। যদি নির্বাচন কমিশন অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিল না করে, তবে বাগেরহাটে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।” তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “দাবি মানা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
হরতালের কারণে উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজার, তাফালবাড়ী বাজার, আমড়াগাছিয়া, রাজাপুরসহ বিভিন্ন বাজারে সব দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। দুরপাল্লা ও আঞ্চলিক সড়কে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষের চলাফেরা ব্যাহত হচ্ছে। রাস্তায় চলাচলকারীদের পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।
অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক টহলে রয়েছে। তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোথাও কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।
শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুদীপ্ত কুমার সিংহ বলেন, হরতালে অফিসের গেটে তালা দিয়ে দেওয়ায় আমি অফিসে ঢুকতে পারিনি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাগেরহাট জেলার চারটি আসনের মধ্যে একটি বাতিল করে তিনটি রাখার গেজেট সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে। এর বিরোধিতা করে জেলার সর্বদলীয় ঐক্যবদ্ধ সংগঠনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন আন্দোলনে নেমেছে। হরতাল চলবে আগামীকাল পর্যন্ত।
