সংসদীয় আসন কমানোর প্রতিবাদে হরতালের দ্বিতীয় দিনেও অচল বাগেরহাট

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৭:২৬

বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসন বহালের দাবিতে দ্বিতীয় দিনেও অচল হয়ে পড়ে বাগেরহাট। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সর্বাত্মক ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ও সড়ক-মহাসড়ক অবরোধে জেলা থেকে সারাদেশের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

বিএনপি-জামায়াতসহ সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির ডাকা এ কর্মসূচিতে মোংলা-খুলনা, মোংলা-ঢাকা, খুলনা-বরিশাল-পটুয়াখালীসহ ৬টি মহাসড়কে চলাচলকারি ৪৮টি দূরপাল্লাসহ আন্তজেলা রুটে দ্বিতীয় দিনেও সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। অন্তত ৩০টি স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছ ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করে পিকেটাররা। ফলে মোংলা সমুদ্র বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে যায়। শিল্পাঞ্চল বিসিক, ইপিজেড, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ কলকারখানায়ও কাজ বন্ধ থাকে।

জেলার শহর ও উপজেলা সদরগুলোর দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। নির্বাচন অফিস ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় কর্মকর্তারা অফিসে ঢুকতে পারেননি। ফেরি চলাচলও বন্ধ ছিল।

হরতালের শেষ বিকেলে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি নতুন করে তিন দিনের হরতালসহ ছয় দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। এর মধ্যে রয়েছে—শুক্র ও শনিবার গণসংযোগ, রোববার সরকারি অফিস-আদালত ঘেরাও এবং সোমবার থেকে টানা তিন দিনের হরতাল। দাবি মানা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন নেতারা।

জেলা প্রশাসক আহমেদ কামরুল বলেন, আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছে। কোথাও বিশৃঙ্খলার খবর পাইনি। তারা আমাদের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে, আমরা তা সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। দাবি মানার সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের। 

পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

উল্লেখ্য, ৩০ জুলাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ কারিগরি কমিটি খসড়া প্রস্তাবে বাগেরহাট জেলার চারটি আসনের মধ্যে একটি কমিয়ে তিনটি রাখার প্রস্তাব দেয়। এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে জেলার রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনগুলো নির্বাচন কমিশনের শুনানিতেও অংশ গ্রহণ করেন। কিন্তু তাদের দাবিকে উপেক্ষা করে গত ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত গেজেট বাগেরহাটে একটি আসন কমিয়ে তিনটি আসন রাখাসহ নিজেদের খসড়া প্রস্তাবে সম্পূর্ণ পাল্টে দিয়ে আসনের সীমানা নির্ধারণ করে। ইসির এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

ইত্তেফাক/এসজেএস/এমএএস