চার দিনেও সন্ধান মেলেনি নিখোঁজ ব্যাংকারের

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৭:৫৯

সিলেটের পাঠানপাড়া শিববাড়ি এলাকা থেকে ব্যাংকে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন মফিজুর রহমান বাবুল (৪৭) নামের এক সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা। নিখোঁজের চার দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ মেলেনি। পরিবার এখন চরম উৎকণ্ঠায় দিন পার করছে।

নিখোঁজ বাবুল সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুরে অবস্থিত একটি বেসরকারি ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা। তার গ্রামের বাড়ি বিশ্বনাথ পৌরসভার মজলিস ভোগশাইল গ্রামে। তিনি স্ত্রী ও সন্তানসহ দীর্ঘদিন ধরে সিলেট শহরের পাঠানপাড়া শিববাড়ি এলাকায় বসবাস করছিলেন।

নিখোঁজের দিন বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাসা থেকে ব্যাংকের উদ্দেশ্যে বের হন বাবুল। এরপর থেকে আর কোনো সন্ধান মেলেনি। স্ত্রী শেখ জেসমিন রহমান জানান, বের হওয়ার আগে দুপুরে স্বাভাবিকভাবেই খাওয়া-দাওয়া করেন। এর আগে একবার ফোনে তার সাবেক কর্মস্থল ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল। সে অনুযায়ীই সেদিন বের হন। কিন্তু রাতে বাসায় না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে সন্ধ্যায় ফোন করি, তখন থেকেই ফোন বন্ধ পাই।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকে যোগাযোগ করলে জানায়, তিনি সেখানে যাননি। এরপর রাতেই মোগলাবাজার থানায় আমার ভাইপো একটি জিডি করেন (জিডি নম্বর-৫১৬)। পরদিন আমি র্যাব-৯ এ আরও একটি জিডি দায়ের করি।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বাবুল নিখোঁজ হওয়ার দিন দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে সর্বশেষ তার মোবাইল ফোনের অবস্থান ছিল সিলেটের কদমতলী এলাকায়। এরপর তার ফোন বন্ধ হয়ে যায় এবং এখন পর্যন্ত আর চালু হয়নি। নিখোঁজ বাবুলের কোনো আর্থিক লেনদেন-সংক্রান্ত জটিলতা, পারিবারিক বিরোধ বা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ছিল না বলে জানায় পরিবার। এমনকি তার সাবেক কর্মস্থলের সাথেও কোনো বিরোধ ছিল না।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বাবুল সম্প্রতি কিছুটা চিন্তিত ছিলেন, তবে কাউকে কিছু বলেননি। এ অবস্থায় তারা মনে করছেন, হয়তো কোনো জটিলতায় তিনি পড়েছেন।

স্ত্রী জেসমিন রহমান বলেন,আমার স্বামীর কোনো শত্রু নেই। তার মতো সৎ মানুষকে কেউ কেন কষ্ট দেবে জানি না। আমি শুধু চাই, তিনি নিরাপদে ফিরে আসুন। আমরা খুব দুশ্চিন্তায় আছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) মোগলাবাজার থানার এসআই মো. নূর উদ্দিন বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও পরিবারের সাথে বিস্তর কথা হয়েছে। অনুসন্ধানে এখনও পর্যন্ত নিখোঁজের পেছনের কোন সূত্র পাওয়া যায়নি। তদন্ত চলমান রয়েছে। ফোন সচল হলেই এর একটা সুরাহা হবে বলে আমি আশাবাদি।

ইত্তেফাক/এএইচপি