ফুলবাড়ীতে সাপের কামড়ে দুদিনে প্রাণ গেল ৩ জনের

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৩:৫৮

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে তিনদিনের ব্যবধানে সাপের কামড়ে তিনজন গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর ওই এলাকায় সাপের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, গত রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে ৩ নম্বর কাজিহাল ইউনিয়নের পুখুরী সিংপাড়া গ্রামের শ্যামল রায়ের স্ত্রী বীনা রানীর (৪৪) সাপের কামড়ে মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার দুদিন পর মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ৭ নম্বশিবনগর ইউনিয়নের রাজারামপুর চুনিয়াপাড়া গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্রের স্ত্রী কনিকা রানী (৪৫) এবং ৩ নম্বর কাজিহাল ইউনিয়নের রামেশ্বরপুর গ্রামের মৃত দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী বুলবুলি বেগমের (৩৩) সাপের কামড়ে মৃত্যু হয়।

নিতহদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ৭নং শিবনগর ইউনিয়নের রাজারামপুর চুনিয়াপাড়া গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্রের স্ত্রী কনিকা রানী (৪৫) তার রান্না করার সময় রান্নাঘরের খড়ির মধ্যে থাকা সাপ বেরিয়ে তার পায়ে ছোবল দেয়। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে তার অবস্থা অবনতি দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে যাওয়ার পথে কনিকা রানীর মৃত্যু হয়।

একইদিন সকালে ৩ নম্বর কাজিহাল ইউনিয়নের রামেশ্বরপুর গ্রামের মৃত দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী বুলবুলি বেগম (৩৩) মাটির চুলা থেকে ছাই তোলার সময় চুলায় থাকা সাপ তার ডান হাতে কামড় দেয়। পরিবারের লোকজন তাকে আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তারও অবস্থায় গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড। দিনাজপুর নেওয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়।

এর দুদিন আগে রোববার রাত ৮টার দিকে ৩ নম্বর কাজিহাল ইউনিয়নের পুখুরী সিংপাড়া গ্রামের শ্যামল রায়ের স্ত্রী বীনা রানীকে (৪৪) ঘরের ভেতর ছোবল দেয় সাপ। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই ছটফট করে কিছুক্ষণের মধ্যে মৃত্যু কোলে ঢলে পড়েন।

শিবনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছামিদুর ইসলাম বলেন, এলাকায় সাপের কামড়ে তিন গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি-বাদলে সতর্ক থাকার জন্য সবাইকে পরামর্শ দিচ্ছি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নূরে আলম বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপের কামড়ের অ্যান্টিভেনম ইঞ্জেকশন পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ রয়েছে। সাপের কামড়ের লক্ষণ এবং কি সাপ কেটেছে তা জেনেই রোগীর শরীরে অ্যান্টিভেনম ইঞ্জেকশন প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু সাপের কাটা রোগী দু’টোর অবস্থা খুবই খারাপ হওয়ায় এবং একজন রোগীর সাপোর কাটার কোনো লক্ষণ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছিল। 

ইত্তেফাক/এপি