আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন - পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবিকে এই মুহূর্তে বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটি মনে করে, এই মুহূর্তে এই দাবিকে সামনে এনে আন্দোলন করার চেয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে একযোগে কাজ করাই অধিক যৌক্তিক।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল পিআর পদ্ধতির দাবিতে আন্দোলনে নামায় বিএনপি কী ভাবছে—এ প্রশ্নে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন একসঙ্গে আন্দোলন করেছি। একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে কিছু বলতে চাচ্ছি না। কিন্তু কবে আমরা পিআরের আলোচনা শুরু করলাম? কে কবে পিআরের দাবিতে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে?
‘এই যে জুলাই-আগস্টে আন্দোলন হলো, সেখানে কি দাবির মধ্যে পিআর ছিল? নির্বাচন সামনে। এই সময়ে এ রকম আন্দোলন? আমরা মনে করি, তারা বুঝতে পারবে, তাদের কী করা উচিত। আশা করি, তারা নির্বাচনকে সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করতে সহযোগিতা করবে।’
বিএনপির এ নেতা বলেন, পিআর তো এখন খুব একটা আলোচনার বিষয়বস্তু নয়। যদি আপনি রাজিও হন, তাহলেও তো নির্বাচন পিআর পদ্ধতিতে হবে না। সেটা হবে সংবিধান সংশোধন হওয়ার পর।
এ সময় বিএনপির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘পিআর চাইলে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সংসদে গিয়ে সেটা পাস করাতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলো একতরফাভাবে টেবিলে বসে তা ঠিক করে ফেলতে পারে না। এটি সময়সাপেক্ষ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া।’
তিনি আরও বলেন, ‘পিআর নিয়ে এখন আন্দোলন ডাকা মানে চলমান সংলাপ বা আলোচনার টেবিলকে অবজ্ঞা করা। এতে প্রশ্ন উঠে—এই ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে কেউ কি দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে চাইছে? বিতাড়িত শক্তিকে ফিরিয়ে আনার কোনো গোপন প্রচেষ্টা চলছে কি না, তাও প্রশ্নবিদ্ধ।’
ইইউ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক সম্পর্কে আমীর খসরু বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পথে এগোচ্ছে—এটা ইইউ ইতিবাচকভাবে দেখছে। তারা চায়, বাংলাদেশ যত দ্রুত সম্ভব একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রে ফিরে যাক।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইইউ জানতে চেয়েছে আমরা কী পরিকল্পনা করছি, তারা কীভাবে সহায়তা করতে পারে—তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আমরা বলেছি, একটি সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমেই গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা সম্ভব।’
