চিতলমারী উপজেলার বেতি বুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই কক্ষবিশিষ্ট পুরানো টিনশেড ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান।
১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত ও ১৯৮৪ সালে জাতীয়করণ হওয়া এই বিদ্যালয়ের ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে মেরামতের অভাবে ছিঁড়ে ঝুলে থাকা টিন এবং ফাটল ধরে পড়ে থাকা দেয়ালের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের একটি কক্ষের চাল পুরোপুরি উন্মুক্ত, যেখানে কখনোই বৃষ্টি ও ধুলোর আঘাত থেকে শিক্ষার্থীরা সুরক্ষিত নয়। অপর কক্ষে ঝুলে থাকা ছেঁড়া টিনের নিচে ক্লাস চলছে, যেখানে বৃষ্টি হলে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়। দেয়ালে ফাটল ধরার পাশাপাশি মাঝখানে পলেস্টার খসে পড়ার কারণে কক্ষ দুটি পার্টিশন দিয়ে ভাগ করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী অনিক শেখ ও নুসরাত জাহান জানান, বৃষ্টি হলে তাদের ক্লাসে আসা ভয় লাগে কারণ পানি পড়ে বই ভিজে যায় এবং ভবনের অবস্থা দুঃখজনক।
মামুন ফরাজী ও সরোয়ার ফরাজী নামে দুই অভিভাবক বলেন, আমরা সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য বিদ্যালয়ে পাঠাই, কিন্তু ভবনের এই দুরবস্থা আমাদের উদ্বিগ্ন করে রাখে। আমরা চাই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা কবিতা রানী মণ্ডল জানান, বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১২২ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। ঝুঁকি সত্ত্বেও শিক্ষকরা প্রতিদিন পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন।
চিতলমারী উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, বিদ্যালয়ের ভবনটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা ইতোমধ্যে দুইবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নতুন টিনশেড ঘর নির্মাণের জন্য জানিয়েছি, তবে এখনো তেমন কোনো ফলাফল দেখা যায়নি।
