ঢাকায় অপরিকল্পিত নগরায়ণে বছরে ক্ষতি জিডিপির ৬ থেকে ১০ শতাংশ

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৪

ঢাকাকে কেন্দ্র করে অতি ও অপরিকল্পিত নগরায়ণ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ক্ষতি করছে। পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বনানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে জানিয়েছে, ঢাকার অতিরিক্ত জনসংখ্যা, যানজট, দূষণ এবং নগর সেবার অভাব দেশের জিডিপির ৬ থেকে ১০ শতাংশ ক্ষতি করছে। গবেষকরা বলেন, ঢাকার বদলে প্রান্তিক শহরগুলোতে বিনিয়োগ করলে কম খরচে বেশি রিটার্ন পাওয়া সম্ভব।

‘আরবানাইজেশন অ্যান্ড বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে জেলা শহর ও প্রান্তিক অঞ্চলের উন্নয়ন অপরিহার্য। রাজধানীতে প্রতিদিন দুই কোটি মানুষ বসবাস করছেন, যা যানজট, দূষণ এবং উচ্চ তাপমাত্রার কারণে নাগরিকদের উৎপাদনশীলতা কমাচ্ছে। সেমিনারে বলা হয়েছে, ঢাকার অতি কেন্দ্রীভূত চরিত্র দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

প্রধান অতিথি পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, নীতি কাঠামোর দুর্বলতার কারণে সবাইকে ঢাকামুখী হতে হচ্ছে। তিনি যোগ করেন, ঢাকার বিকল্প শহর গড়ে তোলা ও স্থানীয় সরকারকে শুধু দায়িত্ব নয়, ক্ষমতাও দেওয়া অত্যাবশ্যক। নগরায়ণ ও রাজনৈতিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা জরুরি।

গবেষক ড. আহমদ আহসান বলেন, নগরায়ণ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হলেও বর্তমানে ঢাকাকেন্দ্রিক নগরায়ণ দীর্ঘমেয়াদে জিডিপির জন্য ক্ষতিকর। শ্রমিক, শিল্প ও সেবা খাতের অপ্রতুলতা, নগর সুবিধার অভাব এবং কেন্দ্রীভূত শাসন কাঠামো নগরায়ণের সুফলকে সীমিত করছে।

অন্যান্য আলোচকরা বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রামের বাইরে শহরগুলোতে নাগরিক সুবিধা খুবই সীমিত। গ্রামীণ বা ছোট শহরে সম্পদ চলে যাওয়াকে ‘হারানো শহর’ প্রবণতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নগরায়ণ পরিকল্পনা ও বিকেন্দ্রীকরণ বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় সরকার, নির্বাচিত নগর নেতা এবং কেন্দ্রীয় সংস্থা ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় ও ক্ষমতার যথাযথ বণ্টন জরুরি।

সেমিনারে অংশ নেওয়া বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, যদি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার না আনা হয়, তবে নগরায়ণ ও বিকেন্দ্রীকরণ পরিকল্পনা শুধু কাগজেই থেকে যাবে এবং দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সীমিত থাকবে।

ইত্তেফাক/কেএইচ