শিশুর মৃত্যু ঘিরে ঢামেক হাসপাতালে ভাঙচুর ও মারামারি, আহত ট্রলিম্যানসহ কয়েকজন

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০১:৫১

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাতে জরুরি বিভাগে মারামারি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে হাসপাতালের ট্রলিম্যানসহ অন্তত কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, সাফওয়ান (৪) নামের এক শিশুর মৃত্যুর পর স্বজনরা চিকিৎসক ও কর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ১৫-২০ জন ব্যক্তি জরুরি বিভাগে ঢুকে ভাঙচুর চালান। আহতদের মধ্যে ট্রলিম্যান জুয়েল গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন।

২১০ নম্বর ওয়ার্ডে দায়িত্বরত আনসার সদস্য মো. আব্দুল্লাহ জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে চিকিৎসকদের ওপর চড়াও হন এবং পরে জরুরি বিভাগে গিয়ে “ভুল চিকিৎসা” অভিযোগে স্লোগান দিতে থাকেন।

আনসার সদস্য সাকিব বলেন, মরদেহ বের করতে গেলে কাগজপত্র চাওয়ার সময় স্বজনরা তাকে মারতে আসেন। ট্রলিম্যান জুয়েল এগিয়ে গেলে তাকে ১৫-২০ জন মিলে বেধড়ক মারধর করে জরুরি বিভাগ থেকে টেনে নতুন ভবনের সামনে নিয়ে যায়। পরে হাসপাতালের কর্মীরা গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।

নিহত শিশুর ফুফু মোছা. সীমরান জানান, সাফওয়ান বংশালের সাত রওজার বাংলাদেশ মাঠ এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকত। সে কিডনি সমস্যায় ভুগছিল এবং নিয়মিত চিকিৎসা চলছিল। হঠাৎ অসুস্থ হলে তাকে ঢামেকে আনা হয়।

তার ভাষ্য, “এখানে কোনো চিকিৎসাই দেওয়া হয়নি। এজন্য আমাদের বাচ্চা মারা গেছে। উপরন্তু, শিশুটির বাবা সামির ও তার বন্ধু সোয়েব হোসেনকে হাসপাতাল কর্মীরা মারধর করেন।” তবে ২১০ নম্বর ওয়ার্ডের চিকিৎসকরা এই বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

আনসার প্লাটুন কমান্ডার সেলিম মিয়া জানান, মৃত শিশুকে ঘিরে উত্তেজিত স্বজনরা ওয়ার্ডের দরজা ভাঙেন এবং নার্সদের মারতে উদ্যত হন। পরে জরুরি বিভাগেও এক আনসার সদস্যকে মারতে যান। জুয়েল নামের ট্রলিম্যান এগিয়ে গেলে তাকে পিটিয়ে আহত করা হয়।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, ঘটনার পর মৃত শিশুর দুই স্বজনকে হাসপাতাল কর্মীরা আটকে রেখে মারধর করেন। পরে তাদের শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়।

তিনি জানান, “হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।”

ইত্তেফাক/এএম