হোগলাপাতায় স্বপ্ন বুনছেন বাউফলের নারীরা

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:০৮

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া বন্দর লঞ্চঘাট গ্রামের দরিদ্র পরিবারের নারীরা সংসারে কাজের ফাঁকে হোগলা বুনে পরিবারে সচ্ছলতা এনেছেন। তারা এখন গ্রামের নারীদের অনুকরণীয় হয়ে উঠেছেন। তাদের হোগলাশিল্প ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে। পুঁজি কম লাগায় গ্রামীণ নারীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই শিল্পটি।

একসময় প্রত্যেক পরিবারের বিছানার নিচে ব্যবহার এবং ধানের গোলা তৈরির জন্য হোগলার বেশ কদর ছিল। আধুনিক কালে ধানের গোলায় হোগলার ব্যবহার অনেকাংশে বিলীন হয়ে গেছে। ৯০ দশকের পর বরফ উৎপাদন, সরবরাহ এবং মাছের রপ্তানির জন্য হোগলার ব্যবহার আবার ঐ শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত হয়েছে এই উপজেলায়। হোগলাকে কেন্দ্র করে উপজেলার কালাইয়া বন্দরের লঞ্চঘাট এলাকায় হোগলাশিল্পের পল্লি গড়ে উঠেছে। বাউফলের বাণিজ্যিক কেন্দ্র কালাইয়া বন্দরের লঞ্চঘাট এলাকায় প্রায় ৩০০ পরিবারের বসবাস। এদের অধিকাংশই মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র শ্রেণির। বাড়ির ভিটা ছাড়া তাদের আর কিছুই নেই। অন্যদিকে ব্যবসা করার মতো পুঁজিও নেই। প্রায় পরিবারের পুরুষ সদস্যরা অন্যের জমি চাষ কিংবা দিনমজুর হিসেবে কাজ করছে।

জানা যায়, ৯০-এর দশকে কালাইয়া বন্দর লঞ্চঘাট এলাকায় কয়েকটি বরফকল স্থাপিত হয়, এই বরফকলকে কেন্দ্র করে বেশকিছু মাছের আড়ত বসে। ঐ বরফকল ও মাছের আড়তকে কেন্দ্র করেই এখানে মৃত প্রায় হোগলা শিল্পের পুনর্বিকাশ ঘটে। বরফকলের বরফ সাপ্লাই দেওয়া এবং মাছ মোকামজাত করতে হোগলাকে ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে বাউফলের হোগলাশিল্পীরা হাজার হাজার হোগলা তৈরি করে বরফকল ও মাছের আড়তে সরবরাহ করছে।

সরজমিনে দেখা গেছে, কালাইয়া লঞ্চঘাটের অঞ্জনা রানী পুত্রবধূ মনিকাকে নিয়ে হোগলা তৈরি করছে। কথা হয় অঞ্জনার সঙ্গে। তিনি জানান, ১৩-১৪ বছর বয়সে এ গ্রামের হরিপদ মণ্ডলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। স্বামীর বাড়িতে অভাব-অনটনের মধ্যেই দিনাতিপাত হচ্ছিল। একসময় সংসারের হাল ফেরাতে হোগলা তৈরিতে হাত দেন অঞ্জনা। তাদের হোগলার বেশ সুনাম রয়েছে। কারণ তারা বাছাইকৃত পাতা দিয়ে হোগলা তৈরি করেন। অধিকাংশ হোগলাই বিক্রি হয় স্থানীয় বরফকল ও মাছের আড়তদারদের কাছে।

হোগলাশিল্পীরা জানান, দুজন মিলে একটি হোগলা তৈরি করতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে। বরফকল ও মাছের আড়তের জন্য আড়াই হাত পাশ এবং তিন হাত লম্বা এবং পারিবারিকভাবে ব্যবহারের জন্য চার হাত পাশ এবং সাড়ে পাঁচ হাত লম্বা হোগলা তৈরি করতে হয়। বরফকল ও মাছের আড়তে সরবরাহকৃত প্রতি হোগলার দাম ৬০ টাকা। হোগলা তৈরির মূল উপকরণ হোগলাপাতা শুকিয়ে আঁটি বেঁধে বিভিন্ন চরাঞ্চল থেকে কালাইয়া বন্দরে বিক্রি করতে আনা হয়। প্রতি আঁটি পাতার দাম ১৫০ টাকা। প্রতি আঁটি পাতায় বরফকল ও মাছের আড়তের জন্য ১০ খানা হোগলা তৈরি করা যায়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, গ্রামীণ এ শিল্পের সঙ্গে নারীদের সম্পৃক্তা সত্যিই প্রশংসনীয়। গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে এ শিল্প বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে। এসব নারীকে সব ধরনের সহায়তা করা হবে।

 

ইত্তেফাক/এসএএস