উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার সাতক্ষীরা, ঢাকায় নাগরিক সমাবেশ

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৪:৩৮

বিগত বছরগুলোতে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বারবার বৈষম্যের শিকার হয়েছে সাতক্ষীরা জেলা। দীর্ঘদিনের এই বৈষম্যের প্রতিবাদ এবং ন্যায্য উন্নয়ন অধিকার আদায়ের দাবিতে ঢাকায় নাগরিক সমাবেশ করেছে সাতক্ষীরাবাসী।

রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে সাতক্ষীরা উন্নয়ন সমন্বয় ফোরামের উদ্যোগে এই নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে জেলার চার শতাধিক সচেতন নাগরিক অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, সাতক্ষীরা বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জেলা। জাতীয় রাজস্বে এ জেলার অবদান যথেষ্ট হলেও গত ১৭ বছরে কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আসেনি। বিশ্বের অন্যতম প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সুন্দরবন সাতক্ষীরায় অবস্থিত হওয়ায় প্রতিবছর হাজারো পর্যটক এখানে আসেন। কিন্তু অবহেলা ও বৈষম্যের কারণে জেলার সাধারণ মানুষ মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

তারা জানান, জেলার যোগাযোগ অবকাঠামোর দুরবস্থা চরমে, সুপেয় পানির সংকট তীব্র, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে অব্যবস্থাপনা প্রকট। খেলাধুলার জন্য আধুনিক কোনো ক্রীড়া কমপ্লেক্স নেই, নেই রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা, এমনকি কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও ফুড প্রসেসিং ব্যবস্থাও গড়ে ওঠেনি। তাই সাতক্ষীরার উন্নয়ন বঞ্চনার অবসান ঘটাতে অবিলম্বে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের দাবি জানান বক্তারা।

সমাবেশে ‘আর নয় কেন বৈষম্য, আমরা জেলাবাসী আমাদের ন্যায্য অধিকার চাই’—এ শ্লোগান তোলেন সাতক্ষীরার নাগরিকরা। এ সময় তারা জেলার উন্নয়নে বেশ কিছু দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন,
  • সাতক্ষীরাকে দেশের রেল নেটওয়ার্কে যুক্তকরণ,
  • সুন্দরবন ঘিরে টেকসই ইকোটুরিজম গড়ে তোলা,
  • উপকূলীয় এলাকায় টেকসই বাঁধ নির্মাণ,
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও সার্ভেয়ার ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা,
  • পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর বাস্তবায়ন,
  • আধুনিক সেচব্যবস্থা ও কৃষিপণ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা,
  • নার্সিং ইনস্টিটিউট ও ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা,
  • সাতক্ষীরাকে গ্রেড-১ জেলা ঘোষণা ও পাটকেলঘাটাকে উপজেলা পর্যায়ে উন্নীত করা,
  • আধুনিক বাস টার্মিনাল ও আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম নির্মাণ,
  • গ্রামীণ মানুষের জন্য জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করা,
  • নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতা প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প গ্রহণ,
  • স্বাস্থ্য খাতে লোকবল নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ,
  • মৃৎশিল্পে বিনিয়োগ, আম, চিংড়ি ও মৎস্যচাষে আধুনিক সংরক্ষণাগার ও প্রসেসিং প্লান্ট গড়ে তোলা,
  • সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান রোধে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

সাতক্ষীরা উন্নয়ন সমন্বয় ফোরামের সভাপতি ইকবাল মাসুদের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ঢাকাস্থ সাতক্ষীরা জেলা সমিতির সভাপতি প্রকৌশলী আবুল কাশেম, উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম, সহ-সভাপতি সামছুল আলম, নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান বাবু, বৃহত্তর খুলনা সমিতির সহ-সভাপতি শেখ মোয়াজ্জেম হোসেন, সাতক্ষীরা ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শরিফুজ্জামান শরিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাজাহারুল আনোয়ার, সাতক্ষীরা উন্নয়ন সমন্বয় ফোরামের সদস্য সচিব মোস্তফা বকুলুজ্জামান, সাংবাদিক সাইদুর রহমান, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সংগঠন দরদির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল সংসদের ভিপি আহসান হাবিব ইমরোজ, বিজয় একাত্তর হল সংসদের এজিএস ইমরান হোসেন এবং জগন্নাথ হলের ক্রীড়া সম্পাদক অভিজিৎ দত্ত।

ইত্তেফাক/এনএন