খুলনায় উচ্ছেদ অভিযানে স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, আহত ১০

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৭:১৪

খুলনায় অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ অভিযানের সময় পুলিশের সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৮–১০ জন আহত হয়েছেন। রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে নগরীর বয়রা বাস্তুহারা এলাকার মুক্তিযোদ্ধা কলোনিতে এ ঘটনা ঘটে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে গেলে কলোনিবাসীরা বাধা দেয়। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সড়ক বিভাগের একটি বুলডোজার ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ পাল্টা লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষে। 

গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ জানায়, খুলনার বাস্তুহারার ২ একর জায়গায় বাস করছে প্রায় ২০০ পরিবার। ১৯৮৭ সালে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ জায়গাটি প্লট আকারে বিক্রি করে। ৩৫ বছর পার হলেও এখনও জায়গা বুঝে পাননি ৪২ প্লট মালিক। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষ করে রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে প্লট মালিকদের জায়গা বুঝিয়ে দিতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। কিন্তু শুরু থেকেই টায়ার জ্বালিয়ে, গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করে রাখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সকাল ১০টার পর পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। এ সময় স্থানীয়রা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ পিছু হটে। পরে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।

স্থানীয় বাসিন্দা বিলকিস বেগম (৪৫) বলেন, আমরা ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এখানে আছি। উচ্ছেদ করা হলে কোথায় যাব? পুনর্বাসন ছাড়া আমরা কোনোভাবেই এখানে থেকে সরব না। একই দাবি জানান একই এলাকার বাসিন্দা ও সরকারি ব্রজলাল কলেজের ছাত্র রাসেল হাওলাদার। তিনি বলেন, আগে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। হঠাৎ করে উচ্ছেদ করা অমানবিক।

খালিশপুর থানার ওসি মীরা আতাহার আলী বলেন, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ উচ্ছেদে সহযোগিতা করছিল। কিন্তু বস্তিবাসীরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে হামলা চালায়। এতে আমিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) রাশিদুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষের পর উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হবে বলে তিনি জানান।

ইত্তেফাক/এএম