ভিপিকে কি ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যে জরিমানা করছেন: রিজভী

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ২০:৩০

দোকানিকে জরিমানা করা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্যসেন হলের ভিপি আজিজুল হকের কাড় সমালোচনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। 

তিনি বলেছেন, ‘ছাত্র রাজনীতিতে নির্বাচন হচ্ছে; কি নির্বাচন হচ্ছে, না হচ্ছে- আপনারা সব দেখছেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের যিনি ভিপি হয়েছেন, তাকে কি ম্যাজেস্ট্রেসি পাওয়ার দেওয়া হয়েছে? তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কোনটা অবৈধ দোকানপাট দেখছেন...।’

রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব এ মন্তব্য করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারুফ মল্লিকের লেখা ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ: নাগরিক ও জাতিবাদী জাতীয়তাবাদের সংকট’ গ্রন্থের প্রকাশনা উপলক্ষ্যে এ আলোচনা সভা আয়োজন করে ‘৭ নভেম্বর প্রজন্ম’।

তিনি বলেন, ‘অবৈধ দোকানপাট থাকতে পারে, কিন্তু সেটা জরিমানা করার ক্ষমতা কি ডাকসুর ভিপির আছে? তিনি সেটা জরিমানা করে সেটা আবার দিচ্ছেন পার্টির ফান্ডে। একজন ছাত্র নেতা হিসেবে বলতে পারেন যে, ‘ক্যাম্পাসে শান্তি বিঘ্নিত হচ্ছে- স্যার, এটা দেখেন’। অথচ আপনি গিয়ে জরিমানা করে দিচ্ছেন, আর সেই জরিমানার অর্থ জামায়াতের বায়তুল মালে জমা হচ্ছে… এটা কোন ধরনের বিষয়?’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাবেক ভিপি রিজভী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞানচর্চার দায়িত্ব পালন করবেন তিনি (ভিপি), সেই জ্ঞান চর্চায় শিক্ষক-ছাত্রদের অংশগ্রহণ থাকবে- এইটা কতটুকু নিশ্চিত করা হচ্ছে; সেটা না করে আপনি যে বৈধ-অবৈধ তার কাছ থেকে ফাইল করছেন। আমিও ভিপি ছিলাম একটা ইউনিভার্সিটির। আমরা তো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে কে দোকানদারি করছে, কে মার্কেট করছে- সেটা দেখিনি। এটা তো ইউনিভার্সিটির অথরিটি আছে, প্রশাসন আছে- তারা এগুলো দেখবে।’

তিনি বলেন, ‘একজন ছাত্র নেতা হিসেবে বলতে পারেন যে, ‘ক্যাম্পাসে শান্তি বিঘ্নিত হচ্ছে- স্যার, এটা দেখেন’। অথচ আপনি গিয়ে জরিমানা করে দিচ্ছেন, আর সেই জরিমানার অর্থ জামায়াতের বায়তুল মালে জমা হচ্ছে… এটা কোন ধরনের বিষয়?’ 

গত ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্যসেন হলের এক দোকানিকে ‘টেস্টিং সল্ট’ রাখার অভিযোগে তিন হাজার টাকা জরিমানা করেন হলের ভিপি হওয়া আজিজুল।

এরপর ১৪ সেপ্টেম্বর সূর্যসেন হলের ক্যান্টিন মালিককে খাবারের মান উন্নত করতে ১৫ দিন সময় বেঁধে দেন। কর্মচারীদের হাফ প্যান্ট পরা নিয়ে ক্যান্টিনের লোকজনকে তার শাসানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

রিজভী বলেন, ‘আমার দেখছি, ইউনিভার্সিটির হলগুলোতে খাট দিচ্ছে… লোহার খাট। ভাই এটা কি ইয়ের দায়িত্ব নাকি কোন রাজনৈতিক সংগঠন বা ডাকসুর দায়িত্ব? আপনি ছাত্রদের দাবি দাওয়া নিয়ে ভাইস চ্যান্সেলরের সাথে বার্গেনিং করবেন। এটার বাইরে তো না। এটা কি এতিমখানা নাকি যে আপনি সেখানে লোহার খাট দেবেন, আপনি সেখানে কী বলে যে খাবার জন্য ডাইনিং টেবিল দেবেন। এই জিনিসগুলো কিন্তু খুব বাজে আলামত বলে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে।’

রিজভী অভিযোগ করে বলেন, ‘এই যে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আজকে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে যে ধরনের হুমকি-হুংকার আসছে, বর্তমান যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেভাবে যাচ্ছে, যেভাবে এগুচ্ছে এবং যে সমস্ত শক্তির উত্থান ঘটছে- এটাও এক ধরনের আমাদের সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীনতার মানে অটুট রাখার জন্য একটা বড় ধরনের ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত বলে আমি মনে করি।’

ইত্তেফাক/এমএস