টেকনাফের গহীন পাহাড়ে মানব পাচারকারীদের আস্তানায় র্যাব ও বিজিবির যৌথ অভিযান চালিয়ে জিম্মি ৮৪ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে জীবিত উদ্ধার করেছে। এ সময় তিনজন মানব পাচারকারীকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়। অভিযানে যৌথ বাহিনীর ওপর গুলিবর্ষণ করে পাচারকারীরা।
আটককৃতরা হলেন, টেকনাফ বটতলীর মো. ফিরোজের ছেলে মো. ইব্রাহিম (২০), আবুল হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম (২০) ও কচ্ছপিয়া এলাকার সালামত উল্লাহর ছেলে আব্দুল্লাহ (২১)। বিষয়টি নিশ্চিত করেন টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান।
রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে বাহারছড়া কচ্ছপিয়া ও রাজাছড়া এলাকার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানের শুরুতে ১৪ ও পরে ১৩ জনকে উদ্ধার করা হয়। এরপর অভিযানের সময় একাধিকবার যৌথ বাহিনীকে লক্ষ্য করে পাচারকারীরা গুলি ছোড়ে। পাহাড় থেকে জিম্মিদের ফেলে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়।
সতর্কতার সঙ্গে যৌথ বাহিনী পাল্টা গুলি না চালিয়ে কৌশলে পাহাড় ঘিরে রাখে এবং ১২ ঘণ্টার চিরুনি অভিযানে ৩ জন পাচারকারীকে আটক করে। উদ্ধার করা হয় একটি ওয়ান শুটার গান, একনলা বন্দুক, একটি বিদেশি পিস্তল, দেশীয় রামদা ও গুলি।
বাহারছড়া কচ্ছপিয়া এলাকার পাহাড় থেকে ৫৭ জন, এবং বড়ইতলি এলাকা থেকে আরও ৪ জনসহ সর্বমোট ৮৪ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে তারা।
বিজিবি ও র্যাব জানায়, পাচারকারীরা মালয়েশিয়া বা থাইল্যান্ডে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে মানুষদের অপহরণ করে পাহাড়ি আস্তানায় আটকে রেখেছিল। অভিযানের আগে আটককৃত ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
আটক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
অধিনায়ক আশিকুর রহমান জানান, মাদক ও মানব পাচার বন্ধে বিজিবি ও র্যাব সবসময় প্রস্তুত এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
