কথিত মানবাধিকার কর্মী ভয়ংকর প্রতারণার ফাঁদ

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ২১:৪৪

মানবাধিকার নামে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে আলী নাঈম নামে কথিত এক মানবাধিকার কর্মীর বিরুদ্ধে। তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ার বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভয়ংকর চাঁদাবাজি করে আসছে।

জানা গেছে, আলী নাঈম ওরফে মো. নায়েব আলী রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানা এলাকার নফুর উদ্দীনের ছেলে। এলাকায় উকিল নামে সবাই তাকে চিনন। কিন্তু আদতে কিছুই না। ঢাকায় এসে হিউম্যান রাইটস লিগ্যাল এইড সেন্টার ফাউন্ডেশনের আইন উপদেষ্টা পরিচয় দেয়। কিন্তু মানবাধিকারের কোন কর্মকাণ্ডই চোখে পড়েনি।

আওয়ামী ফ্যাসিবাদ  সরকারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরর ঘনিষ্ঠজন পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি করে আসছে। 
আওয়ামীলীগ  সরকার পতনের পরে  আওয়ামী লীগ পর  দোসর আলী নাঈম নিজের খোলস পরিবর্তন করে মানবাধিকার কর্মী বনে গিয়েছেন। 

জুবায়ের হোসেন নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, নায়েব আলী ওরফে আলী নাঈম একটি চক্রের মূল হোতা। তার সঙ্গে কিছু কথিত পত্রিকার সম্পাদক জড়িত। তার প্রতারণা কৌশল হচ্ছে প্রথমে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরীরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি) নাম্বার সংগ্রহ করে। এনআইডি নাম্বার থেকে ব্যক্তিগত টিআইএনের একনলেজমেন্ট তুলে নেয়। এরপর একের পর একজনকে টার্গেট  করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানে বেনামে ভুয়া অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে তাদের হোয়াটসঅ্যাপে নিবন্ধনহীন ভুয়া পত্রিকা-অনলাইন পেপারের ছবি তুলে অথবা লিঙ্ক পাঠিয়ে তাদের ব্লাকমেইলের চেষ্টা করেন।

এই সকল প্রতারণার অভিযোগে ২০১৭ সালে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করা হয়। যার (এফ.আই.আর  নং- ২০/২০) গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ করেন। কারাভোগের পর ফের প্রতারণায় জড়িয়ে পড়েন। 

 

নায়েব আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায় সড়ক পরিবহণ আওতাধীন বিআরটিএ ও সড়ক জনপদের পিয়ন থেকে শুরু করে পরিচালক পর্যন্ত অনেকেই এই চক্রের প্রতারণার শিকার। অনেকে তাকে পতিত আওয়ামী লীগের দোসর বলেও মন্তব্য করেন। 

বিআরটিএর একাধিক কর্মকর্তার কাছে অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেক কর্মকর্তাই বলেন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিজেকে ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠজন পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করতেন আর এখন আমাদের বিভিন্ন পর্যায়ের বিভিন্ন জেলা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামে ভুয়া অভিযোগ বানিয়ে দুদকের চিঠির ভয় দেখিয়ে আমাদের সঙ্গে রীতিমত প্রতারণা করে যাচ্ছে। আমরা এই প্রতারকের কাছে অর্থাৎ নাঈম চক্রের কাছে নিরুপায়। 

প্রতারণা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়ার জন্য অভিযুক্ত নায়েব আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ইত্তেফাক/এনএ