ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশে স্টার লাইন নামের যাত্রীবাহী বাসের চাপায় গজারিয়া সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এ সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে অবস্থান করলে প্রায় এক ঘণ্টা উভয় পাশে রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ থাকে।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে আটটায় বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মহাসড়কে ঢাকামুখী লেনে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থী শ্রাবন্তী (১৪) বাউশিয়া ইউনিয়নের চর বাউশিয়া গ্রামের মো. হানিফ মিয়ার মেয়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী সহপাঠী শিক্ষার্থী তানিশা ও ফাতেহা জানান, আমরা বাড়ি থেকে লোকাল গাড়ি থেকে নেমে সড়ক পার হয়ে বিদ্যালয়ে আসার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এর মধ্যে কুমিল্লা থেকে ছেড়ে আশা দ্রুতগামী একটি বাস চাপা দিয়ে চলে যায়। আমাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে গজারিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যায়।
গজারিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক রুগীকে হাসপাতালে অনার পূর্বে তার মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার খবরে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে স্টার লাইনের ৬টি গাড়ি ভাঙচুর করে বিদ্যালয়ে আটকে রাখে।
সহপাঠী মৃত্যুর খবরে গজারিয়া সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে মহাসড়কে অবস্থান করে দুই মুখী লেনে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয় এবং প্রায় ১ ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
পরে গজারিয়া উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সড়ক থেকে শিক্ষার্থীরা সরে দাড়ায়। শিক্ষার্থীরা স্টার লাইন পরিবহনের ৬টি বাস জব্দ করে আটকে রাখে।
শিক্ষার্থীরা সাত দফা দাবি, ১) শ্রাবণী হত্যায় ও অভিযুক্ত বাস চালককে গ্রেপ্তার ও উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনতে হবে। ২) ক্ষতিপূরণ বাবদ তিন দিনের মধ্যে এক কোটি টাকা দিতে হবে। ৩) রোডস এন্ড হাইওয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে এক মাসের মধ্যে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। ৪) এক সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে ১টি বাস স্ট্যান্ড, স্পিড ব্রেকার /জেব্রা ক্রসিং সহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ৫) শিক্ষার্থীদের রাস্তা পারাপারের নিরাপত্তার জন্য ফুটওভার ব্রিজ পর্যন্ত সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করতে হবে। ৬) শিক্ষার্থীদের চলাচলের সুবিধার্থে প্রতিষ্ঠানের পাশে সংযোগ সড়ক মাটি দিয়ে ভরাট করে দিতে হবে। ৭) ভবেরচর বাস স্ট্যান্ড হতে কলেজ পর্যন্ত মহাসড়কের উভয় পাশে ফুটপাত করা রাস্তা তৈরি করতে হবে।
এ সময় গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম, থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার আলম আজাদ ও গজারিয়ার দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনায় বসে দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ জানায়, গাড়ি সনাক্ত করা হয়েছে, মরদেহ পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, বাসচাপায় ছাত্রী মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে রেখেছিল। ইউএনও মহোদয় ও হাইওয়ে পুলিশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ এর সদস্য ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে যৌক্তিক দাবি মেনে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
