সুনামগঞ্জে হাওরে যুবকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৫, ১৩:৩৫

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরের রূপনগর কান্দাবাড়ী এলাকা থেকে মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এক যুবকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহের বুকে ক্ষতচিহ্ন দেখা গেছে।

নিহত মো. ওমর আলী (৩০) বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ক্ষিদিরপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নৌকা চালিয়ে মালামাল পরিবহন করতেন। রোববার রাত থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। স্থানীয়রা মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে মধ্যনগর থানা পুলিশ বেলা দেড়টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট হলো, রোববার রাত ১০টার দিকে বিজিবি টহলদলকে লক্ষ্য করে চোরাকারবারিরা হামলা চালায়। গোলাগুলিতে বিজিবি নায়েক আখিরুজ্জামান আহত হন এবং সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় সোমবার রাতে বিজিবি বাঙ্গালভিটা ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার মো. ইসরাইল খান ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।

২৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ কে জাকারিয়া কাদির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, রাত ১০টার দিকে সীমান্ত পিলার ১১৯০/১৫ এসের কাছাকাছি টহল দলে থাকা বিজিবি সদস্যরা রূপনগরের দিকে গরু-চোরাচালানকারী চোরাকারবারি দলে মুখোমুখি হন। পরে ১০০-১২০ জন চোরাকারবারি ইট, পাথর ও বল্লম ছুঁড়ে টহলদলকে ঘেরাও করে এবং ১৫-২০টি গুলি ছোড়ে। ঘটনাস্থল থেকে ৩৩টি গরু ও একটি ট্রলার আটক করা হয়। ট্রলারে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও সরঞ্জাম পাওয়া গেছে।

নিহতের পরিবারের দাবি, ওমর আলীর মৃত্যু এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। নিহতের ভাই এরশাদ মিয়া বলেন, তার ভায়রা চোরাকারবারি ছিলেন না এবং ওমর আলীর বুকে গুলির চিহ্ন দেখা গেছে।

মধ্যনগর থানার ওসি মনিবুর রহমান জানিয়েছেন, ‘ওমর আলীর বুকে ক্ষতচিহ্ন আছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়। মরদেহটি সুনামগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠানোর হয়েছে।’

 

ইত্তেফাক/কেএইচ