রংপুর নগরীতে শ্বশুরের অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়া এবং আপত্তিকর একটি ভিডিও ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিতু বানু নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর বালাপাড়া এলাকায় ঘটেছে। খবর পেয়ে দুপুরে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।
নিহত মিতু বানু বদরগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের নাটারাম গ্রামের মেনাজুল মিয়ার মেয়ে।
অভিযোগ উঠেছে, শ্বশুরের যৌন হয়রানির একটি ভিডিও ফাঁস হওয়াকে কেন্দ্র করে পুত্রবধূ মিতু বানুকে সিলিং ফ্যানে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এনিয়ে তোলপাড় পুরো এলাকা।
রংপুর মেট্রোপলিটন কোটালী থানা পুলিশ জানায়, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে রংপুর নগরীর বালাপাড়ায় সোহান মিয়ার বাড়ির নিজ ঘর থেকে তার স্ত্রী মিতু বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরিবারের সদস্যদের বরাতে পুলিশ জানায়, পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকির পর সাড়া শব্দ না পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পায় মিতু বানুকে। পরে ওড়না কেটে নামিয়ে হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করে স্বজনরা। খবর পেয়ে মিতুর ভাইসহ পরিবারের লোকজন ছুটে আসলে তাদের মারধর করে স্বামীর বাড়ির লোকজন।
স্থানীয়রা জানান, মিতু বানুর স্বামী সাহানুর রহমান সোহান মাদকাসক্ত। তার শ্বশুর রাজা মিয়া জোরপূর্বক পুত্রবধূর সঙ্গে বিভিন্ন অনৈতিক কাজ করতেন। সম্প্রতি যৌন হয়রানির আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হয়। ঘটনাটি জানাজানির পর মঙ্গলবার দুপুরে মিতুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ।
পরে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ মিতুর স্বামী সোহানুরকে আটক করে। কিন্তু স্থানীয়দের বাধার মুখে সোহানুরকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় তার লোকজন।
এ বিষয়ে জানতে সোহানুরের বাসায় গিয়ে দেখা যায় গেটের মধ্যে তালা ঝুলছে। বাসার ভেতরে কাউকে পাওয়া যায়নি। এ কারণে সোহানুর এবং তার পরিবারের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিহত গৃহবধূর মামা শফি আলম বলেন, তিন বছর আগে আমার ভাগ্নির সঙ্গে সোহানের বিয়ে হয়। বিয়ে দেওয়ার জন্য আমার হাত-পা ধরেছিল রাজা মিয়া। আমার ভাগ্নির ১০ মাসের একটি বাচ্চা আছে। শিশু বাচ্চা ঘরে থাকা অবস্থায় এমন কাজ কিভাবে করে? এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচারের দাবি করছি।
রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ওসি আতাউর রহমান বলেন, নিহত মিতু বানুর মরদেহ উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পরই স্পষ্ট হবে ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা। আপত্তিকর একটি ভিডিও পাওয়া গেছে। ওই ভিডিওটিকে ক্লু হিসেবে ধরে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
