দুর্গোৎসব ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলে টানা চার দিনের সরকারি ছুটিতে বান্দরবানের থানচিতে সব হোটেল-মোটেল ও কটেজগুলোতে ভ্রমণপিপাসুদের আগাম বুকিং চলছে। দেশের টানা ছুটিতে বিভিন্ন শহরে থেকে ভ্রমণপ্রেমীদের নতুন গন্তব্য থানচি। স্বাভাবিক অন্যান্য দিনের কম পর্যটক প্রবেশ করলেও কয়েক দিন ছুটির কারণে বেশ ব্যাপক আকারে ভ্রমণপিপাসুদের সাড়া মিলেছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তারা জানান, বছর জুড়ে কম বেশি পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে থানচির তুমা-তুঙ্গী ও পাথুরে দেশ তিন্দু। সেখানে এবারে সরকারি বিশেষ ছুটির দিনে ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণা বাড়বে বহুগুণ। স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে পর্যটনশিল্প।
জানা গেছে, দেশের ১ অক্টোবর (বুধবার) মহানবমী উপলক্ষ্যে নির্বাহী আদেশে ছুটি, ২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) বিজয়া দশমীর সরকারি ছুটি ও ৩-৪ অক্টোবর শুক্রবার-শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি উপলক্ষ্যে ১ থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা চার দিন ছুটিতে থাকবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি চাকরিজীবীরা।
একদিকে থানচির তুমা-তুঙ্গী ও তিন্দু পর্যন্ত আংশিক পর্যটন স্পটের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও নৈসর্গিক সৌন্দর্যের পর্যটনখ্যাত নাফাখুম, রেমাক্রী খুম, সাতভাই খুম, ভেলাখুম ও মদকের নান্দ্রেসা মুহসহ অন্য পর্যটনগুলো এখনো নিষেধাজ্ঞার বহাল থাকছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সেসব পর্যটন স্পট খুলে দেওয়ার দাবি করে আসছেন সংশ্লিষ্টরা।
থানচি হোটেল ডিসকভারের ম্যানেজার আলফাত্তা হক ও মেঘবতি রিসোর্টে স্পনসর কোকোচিং মারমা জানান, বর্তমানে তাদের এলাকায় ১৫টি হোটেল রিসোর্ট রয়েছে। কয়েক বছর পরে এবারের মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত পর্যটকের সাড়া পেয়েছেন। আগামী ১-৩ অক্টোবর পর্যন্ত এসব হোটেলের কক্ষ আগাম বুকিং করেছেন ভ্রমণপিপাসুরা।
অন্যদিকে ভ্রমণপিপাসু পর্যটক কয়েক জনের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, থানচিতে ভ্রমণে শুধু আংশিকভাবে সীমাবদ্ধতা না রেখে পরিস্থিতি বিবেচনা করে নৈসর্গিক সৌন্দর্যের পর্যটনখ্যাত স্পটগুলো পুরোদমে খুলে দিলে পর্যটক সমাগম বাড়বে।
থানচি থানার ওসি মো. নাছির উদ্দিন মজুমদার জানান, এবারে টানা ছুটিতে ভ্রমণপিপাসুদের আগমন বেশি হবে। তাদের নিরাপত্তার বিবেচনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুলিশের সেবাদানে সর্বাত্মক প্রস্তুতি রয়েছে।
