নদীর তীরে শোভা পাচ্ছে শরতের কাশফুল। সাপের মতো বয়ে চলা সেই নদীতে বিকেল নামতেই হঠাৎ ছলাৎ ছলাৎ শব্দে মুখরিত হয়ে উঠে চারপাশ। সেই দৃশ্য দেখে মুহূর্তেই উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে নদীর দু’পাড়ে। বাঁশি আর ঢোলের সুরে মেতে উঠে পুরো এলাকা।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) বিকালে নড়াইলের লোহাগড়া শালনগর ইউনিয়নের শিয়েরবর বাজার সংলগ্ন মধুমতি নদীতে এভাবেই নৌকা বাইচে মেতে ওঠে এলাকার বাসিন্দারা। গ্রাম বাংলার লোকজ ঐতিহ্য নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা দেখতে মধুমতি নদীর দু’পাড়ে হাজার হাজার উৎসব মুখর মানুষের ঢল নামে।
আয়োজকরা জানান, প্রতিযোগিতায় নড়াইলসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকে ৪টি নৌকা অংশ নেয়। প্রতিটি দলে ৩০-৪০ জন মাঝি সমম্বিলতভাবে নৌকা চালিয়ে প্রতিযোগিতা করেন। নৌকা বাইচের সঙ্গে গ্রামীণ মেলার আয়োজনও ছিল। মেলায় হাওয়াই মিঠা, মাটির তৈরি পুতুল, খেলনার দোকান, পিঠা-পুলি, বাঁশি ও ঢোলের সুর। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহাদুজ্জামান বাটু ও সাধারণ সম্পাদক কাজী সুলতানুজ্জামান সেলিমসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিরা।
নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নড়াইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম বলেন, নৌকা বাইচ আমাদের ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি শুধুমাত্র একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি আমাদের শেকড়, সংস্কৃতি ও মানুষের সামাজিক সম্প্রীতির প্রতীক। এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা করেন।
শালনগর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান কাজী সুলতানুজ্জামান সেলিম বলেন, নৌকা বাইচ দেখতে দুপুর থেকেই দর্শনার্থীরা আসতে শুরু করেন। দুপুরের মধ্যে মধুমতি নদীর দু’পাড়ে দর্শনার্থীতে ভরে যায়। গ্রাম বাংলার জনপ্রিয় নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা শিশু, নারী-পুরুষসহ সব শ্রেণির দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।
শিশু দর্শনার্থী আবদুল্লাহ- আল মারজান, আবদুল্লাহ-আল তাফসির বলেন, এবারই প্রথম কোনো নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা দেখলাম। অনেক মজা পেয়েছি। এর আগে কোনো প্রতিযোগিতা দেখে এত আনন্দ পায়নি।

