ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

মেসের মিল রেট নিয়ে শিক্ষার্থীদের মারামারি, আহত ৪

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৫, ১৭:১৮

কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে মেসের মিল রেট নিয়ে দ্বন্দ্বে সিনিয়র-জুনিয়রের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে মেস মালিকসহ দুই পক্ষের ৪ জন আহত হয়।

শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে কুষ্টিয়া সদরের পিটিআই রোডের একটি মেসে এ ঘটনা ঘটে।  

আহতরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মনিরুল ইসলাম রোহান ও ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের সজীব ইসলাম এবং এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড জিওগ্রাফি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের হাসিবুজ্জামান নয়ন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মেসের মিলরেটের পরিমাণ ৪০ অথবা ৪৫ টাকা নির্ধারণ করা নিয়ে সিনিয়র-জুনিয়রের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। বাগ-বিতণ্ডার এক পর্যায়ে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে গালাগালা ও হামলার অভিযোগ তোলে। এ ঘটনায় সজীব ইসলাম গুরুতর আহত হলে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরে উভয় পক্ষই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা ও ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানায়।

সজীব ইসলাম বলেন, শুক্রবার রাতে মেসে মিলের বিষয়ে কথা বলার সময় রোহান ভাই হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করেন। আমি প্রতিবাদ করলে তিনি আমার মুখে-মাথায় ঘুষি মারেন এবং হাত মুচড়ে ধরেন। এক পর্যায়ে আমাকে মাটিতে ফেলে মাথা ও শরীরে এলোপাতাড়ি ঘুষি মারেন এবং পা টাইলসে আঘাত করে জখম করেন। তিনি কুষ্টিয়ার স্থানীয় হওয়ায় ক্ষমতা ও ভয়-ভীতি দেখান।

মনিরুল ইসলাম রোহান বলেন, রাত ৯টার দিকে সজীব, শিহাবসহ কয়েকজন আমাকে হিসেব-নিকাশের জন্য ডাকে। এ সময় খাবারের বিল নিয়ে মতবিরোধ হয়। এ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক শেষে সবাই মিলে আবার হিসাব করে।

কিছুক্ষণ পর সজীব ও নয়ন কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি-সেক্রেটারিসহ ২৫-৩০ জন লোক নিয়ে এসে বাসার মালিক ও অন্যদের সামনে আমাকে মারধর করে। এরপর আমাকে রাতের মধ্যেই কুষ্টিয়া ছাড়ার হুমকি দেয়। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।

এ বিষয়ে মেস মালিক তুহিন বলেন, সজীব আর রোহানের ধস্তাধস্তির সময় আমি ছিলাম না, পরে শব্দ শুনি ও একজন আমাকে বললে আমি তাদের নিচে আসতে বলি সমাধানের জন্য। কিন্তু এদিকে সজীব তার বন্ধুবান্ধবসহ অনেক মানুষ ডেকে নিয়ে আসে। ফলে বাইরে ধস্তাধস্তি হয় দুই পক্ষের মাঝে। এতে আমিও হাতে ব্যথা পাই। ঝামেলা সামলাতে না পেরে আমি রোহানকে তার রুমে পাঠাই এবং বাকিদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি।

ইত্তেফাক/এমএএস