কুমেক হাসপাতালে ওষুধ কেনায় অনিয়মের অভিযোগ, দুদকের অভিযান

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৫, ২১:৫১

ওষুধ কেনাকাটায় বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে অনুসন্ধানে অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ সময় হাসপাতালের ওষুধ কেনাকাটার বেশ কিছু নথিপত্র পর্যালোচনা করে দুদক কিছু অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানের জন্য দুদক কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন দুদক কুমিল্লা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. নাজমুল হাসান। কুমেক হাসপাতালে রোববার (৫ অক্টোবর) দুপুরে অভিযান ও অনুসন্ধান শেষে নগরীর হাউজিং এস্টেট এলাকার নিজ কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।  

জানা গেছে, ‘কুমেক হাসপাতালের ওষুধ কেনাকাটায় বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে’ এমন তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি দুদকের নজরে আসে। এরপরই রোববার দুপুরে দুদক সমন্বিত কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. নাজমুল হাসানের নেতৃত্বে দুদকের একটি দল হাসপাতালের মেডিসিন স্টোর রুম ও পরিচালকের কার্যালয়ে অনুসন্ধান চালায়। এ সময় তারা পরিচালকের কার্যালয়ের বিভিন্ন নথিপত্র, ওষুধের স্টোর রুমের মজুদ এবং কেনাকাটা সংক্রান্ত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। এছাড়াও অনিয়মের বিষয়ে তারা কুমেক হাসপাতালের পরিচালক মো. মাসুদ পারভেজের কাছ থেকে অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন এবং সংশ্লিষ্ট নথিগুলো তলব করেন।

দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. নাজমুল হাসান জানান, তিনটি ওষুধ কেনাকাটায় কার্যাদেশ ও ক্রয় সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। এতে যে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে তা উল্লেখ করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য দুদক কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কাছে আবেদন করা হবে। কুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. মাসুদ পারভেজ বলেন, দুদক কর্মকর্তারা ওষুধ কেনাকাটার বিভিন্ন তথ্য ও নথিপত্র দেখতে চেয়েছেন। আমরা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছি। কেনাকাটায় কোনো অনিয়ম হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
 
এর আগে সম্প্রতি কুমেক হাসপাতালের ওষুধ ও মালামাল কেনাকাটা নিয়ে ঐ হাসপাতালে প্রতিবাদ সমাবেশ করে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাব-এর একাংশের নেতৃবৃন্দ। তারা ঐ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. মাসুদ পারভেজ এবং কুমিল্লা মহানগর ড্যাব সভাপতি ডা. এম এম হাসানসহ কমিটির অন্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হলে তাদেরকে অপসারণের জন্য দাবি তোলেন বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এদিকে কুমেক হাসপাতালের ওষুধ ও মালামাল কেনাকাটা নিয়ে এসব অনিয়মের ঘটনায় ড্যাব-এর নেতৃবৃন্দদের নাম সংশ্লিষ্ট থাকায় কেন্দ্র থেকে এ সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা, মহানগর ও কুমেক হাসপাতাল শাখার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।

ইত্তেফাক/এসএএস