কমপ্লিট শাটডাউন ও দুর্গাপূজার ছুটি শেষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) খুলেছে। গতকাল রবিবার (৫ অক্টোবর) ক্যাম্পাস খোলার দিনই রাকসু, হল সংসদ ও সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি প্রচারপত্র বিলি করেছেন। এদিন প্রার্থীদের বিভিন্ন আবাসিক হল, টুকিটাকি চত্বর, পরিবহন মার্কেট, একাডেমিক ভবন সংলগ্ন সড়কে প্রচারপত্র বিতরণ করতে দেখা যায়। তবে প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম ছিল।
এদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন কমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচনি প্রচারের সময় সংশোধন করেছে। গত শনিবার (৪ অক্টোবর) রাতে রাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. এফ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গত ২২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত রাকসু নির্বাচন কমিশনের জরুরি সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ অক্টোবর নির্বাচনকে সামনে রেখে, ৫ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে ১৪ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত প্রচারণার সময় বাড়ানো হয়েছে। এ ব্যাপারে আগের মতো আচরণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে।’
এ তথ্য নিশ্চিত করে গতকাল রবিবার প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক সেতাউর রহমান বলেন, ‘১৬ অক্টোবর রাকসু নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হচ্ছে। নির্বাচনি প্রচারণার সময়সূচি সংশোধন করা হয়েছে।’ আগের তপশিলে ১৫ সেপ্টেম্বর প্রচারণা শুরু হয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা পর্যন্ত চলার কথা ছিল।
উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা হিসেবে ১০টি শর্তে পোষ্য কোটায় ভর্তির সিদ্ধান্ত নেয় একাডেমিক কাউন্সিল। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হাতে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিনসহ কয়েক জন শিক্ষক লাঞ্ছিত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের বহিষ্কার দাবিতে শিক্ষক-কর্মকর্তারা ক্যাম্পাসে অনির্দিষ্টকালের কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করেন। এতে ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ছাড়েন। ফলে ছাত্রদল ও স্বতন্ত্রসহ কয়েকটি প্যানেলের প্রার্থীরা রাকসু নির্বাচন পেছানোর দাবি জানান। গত ২২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচন কমিশনের জরুরি সভায় ২৫ সেপ্টেম্বরের রাকসু নির্বাচন ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।
এদিকে ছুটিতে শিক্ষার্থী ও প্রার্থীদের অনুপস্থিতি রাকসু নির্বাচনি আমেজ থমকে যায়। তবে বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীদের দাবি, ছুটিতে তারা অনলাইনে প্রচার-প্রচারণা চালান।’ অনেকে দুর্গোত্সবের মন্দিরে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। ছুটিতে সাত দিন ধরে ক্যাম্পাসের অভুক্ত পশু-পাখিদের খাবার হিসেবে ভাত, খিচুড়ি, মাংস, বিস্কুট দিয়েছেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা।
