কক্সবাজারের টেকনাফে উনচিপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে অপহৃত মো. রাসেল (৯) নামের এক শিশুর এক মাসেও সন্ধান মেলেনি।
অপহরণকারীরা মুক্তিপণ দাবি করলেও শিশুটিকে ফেরত দেয়নি। ঘটনায় পরিবারে চলছে শোক আর উদ্বেগ, বিশেষ করে মা রমিদা বেগমের আহাজারিতে ভেঙে পড়েছে পুরো পরিবার।
অপহৃত শিশু মো. রাসেল উনচিপ্রাং ২২ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-৬ ব্লকের রশিদ আহমদের ছেলে।
রাসেলের মা রমিদা বেগম জানান, গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে রাসেল ঘরের বাইরে খেলছিল। সন্ধ্যার পর তাকে খুঁজে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করি। কিছুক্ষণ পর আমাদের মোবাইলে ফোন আসে। অপহরণকারীরা বলে, ছেলেকে ফেরত পেতে হলে ১২ লাখ টাকা দিতে হবে, না হলে খুন করে ফেলবে। তখন আমরা কোনোভাবে তাদের দেওয়া বিকাশ নম্বরে ৪৫ হাজার টাকা পাঠাই। এরপরও তারা রাসেলকে ফেরত দেয়নি। বরং পরে একটি ছবি পাঠায়, যেখানে রাসেল হাত বাঁধা অবস্থায় পাহাড়ের ভেতরে আছে।
তিনি আরও জানান, ছেলেকে ফিরে পেতে তিনি প্রশাসনসহ বিভিন্ন জায়গায় ছুটে বেড়াচ্ছেন, কিন্তু এখনো রাসেল জীবিত না মৃত, সেটাও নিশ্চিত নন।
অপহৃত শিশুর নানা রফিক আহমেদ বলেন, আমার মেয়ে রমিদা খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। সারাদিন ছেলের ছবি বুকে নিয়ে কাঁদে। এখন আর তাকে সামলানো যাচ্ছে না। আগে অপহরণকারীরা মাঝে মাঝে ফোন দিত, এখন দুই সহযোগী আটক হওয়ার পর যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে।
এ ঘটনায় ১৩ সেপ্টেম্বর টেকনাফ মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর পুলিশ অপহরণকারী চক্রের সদস্য ওয়াস করিম ও সৈয়দুল আমিনকে আটক করে। তবে চক্রের মূলহোতা ইয়াসিন এখনো পলাতক।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর বলেন, এজাহারভুক্ত তিন আসামির মধ্যে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক ইয়াসিনকে ধরতে অভিযান চলছে। একই সঙ্গে অপহৃত শিশু রাসেলকে উদ্ধারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়া গেলে দ্রুত উদ্ধার সম্ভব হবে।
