প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় বিশেষ অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধ কার্যকর করতে নদী ও সমুদ্র উপকূলে ২৪ ঘণ্টা টহল কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন কোস্ট গার্ডের সদস্যরা।
একইসঙ্গে জেলেদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও আলোচনা সভার আয়োজন এবং সকলকে আইন মেনে চলতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে চাঁদপুর মোহনায় এক সংবাদ সম্মেলনে কোস্ট গার্ড ঢাকা জোনের স্টাফ অফিসার (অপারেশন্স) লে. মো. রাফায়েল মনোয়ার উৎসব এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দেশের সুবিশাল সমুদ্র, উপকূলীয় এবং নদী তীরবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় জাটকা নিধন প্রতিরোধ, মা ইলিশ সংরক্ষণ এবং সমুদ্রে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা কালীন কঠোর নজরদারী এবং প্রতিনিয়ত কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি জানান, এ উপলক্ষ্যে মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কোস্টগার্ড সবরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বিধিনিষেধ কার্যকর করতে নদী ও সমুদ্র উপকূলে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি জেলেদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও আলোচনা সভার আয়োজন এবং সকলকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
এছাড়া জেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌবাহিনী, পুলিশ ও মা ইলিশ সংরক্ষণে সক্রিয় অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা করে আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কোস্ট গার্ডের আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ সময় মা ইলিশ রক্ষায় মৎস্যজীবীদের সহায়তা প্রত্যাশা করে রাফায়েল মনোয়ার বলেন, আমরা বিশ্বাস করি আজকের সংরক্ষণই আগামী দিনের প্রাচুর্য। মৎস্যজীবী ভাইদের নিকট আমার অনুরোধ আসুন, সবাই মিলে কোস্ট গার্ডকে মা ইলিশ রক্ষায় সহায়তা করার মাধ্যমে সুনীল অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে সহায়তা করি।
তিনি জানান, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দায়িত্বাধীন উপকূলীয় ও নদী এলাকার মৎস্য অভায়শ্রমগুলোতে মা ইলিশ রক্ষায় সার্বক্ষণিক টহল কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি আর্টিসানাল ট্রলিং বোটের মাধ্যমে মাছ শিকার করার কারণে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র ধ্বংস, মাছের প্রজনন ব্যাহত, সামুদ্রিক গাছপালা ও পোনামাছ ধ্বংস হয়ে ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বঙ্গোপসাগরে মৎস্য শূন্যতার আশঙ্কা তৈরি করছে। অবৈধ আর্টিসানাল ট্রলিং বোটের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চলমান থাকায় এর ব্যবহার অধিকাংশে কমেছে, যার ফলে সমুদ্র ও নদীতে মাছের প্রাচুর্যতা বৃদ্ধি পাবে।
