দু’হাত হারিয়েও থেমে যাননি অদম্য নিহাল

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৫, ১৫:২৪

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার গুনারিতলা ইউনিয়নের মোসলেমাবাদ গ্রামের অদম্য তরুণ নিহাল। বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় দুই হাত হারিয়েও থেমে যাননি জীবনযুদ্ধে। এখন তিনি চা বিক্রি করে নিজের সংসার চালাচ্ছেন নিজের পরিশ্রম ও সাহসের শক্তিতে।

২০০২ সালে জন্ম নেওয়া নিহাল মোসলেমাবাদ গ্রামের সুলতান আহমদের ছেলে। শৈশবেই বাবাকে হারান। মায়ের আদর-স্নেহেই বড় হয়েছেন। একমাত্র সন্তান হওয়ায় খুব ছোট বয়স থেকেই সংসারের দায়িত্ব নিতে হয় তাকে।

ছাত্রজীবনে পড়ালেখার পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহের জন্য বিদ্যুৎ মিস্ত্রির কাজ করতেন নিহাল। ২০২২ সালে, যখন তিনি এইচএসসি প্রথম বর্ষের পরীক্ষার্থী এবং দ্বিতীয় বর্ষের প্রস্তুতির মধ্যেই ছিলেন, তখন উপজেলার নাদাগাড়ি এলাকায় ঘরের ওয়ারিংয়ের কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন। তড়িৎ শক খেয়ে মারাত্মকভাবে আহত হন এবং শেষমেশ কেটে ফেলতে হয় তাঁর দু’টি হাতই।

তবে জীবনের কাছে হার মানেননি নিহাল। দুর্ঘটনার এক বছরের মাথায় তিনি শুরু করেন নিজের ছোট্ট একটি চায়ের দোকান। আজ সেই দোকানই তাঁর জীবনের নতুন অধ্যায়ের ভিত্তি। হাত নেই, কিন্তু মনোবল আছে। সেই শক্তিতেই টিকে আছেন, চলছেন, লড়ছেন।

নিহাল বলেন, শারীরিক শক্তি নয়, মনের শক্তিই আসল। আমি কাজ করছি, এটাই আমার শান্তি। অনেকে হাত হারালে ভিক্ষা করে, আমি জীবনযুদ্ধে জয়ী হতে চাই।

বর্তমানে নিহাল প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন, তবে তাঁর মা খাদিজাতুন কুবরা এখনো কোনো সরকারি সহায়তা পান না।

এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম খালেক বলেন, নিহাল প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় আছেন। ভবিষ্যতে বরাদ্দ এলে তাঁর মাকে বিধবা ভাতা কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি