বিএনপি নেতার বাধায় ২০০ একর জমিতে চাষাবাদ বন্ধের অভিযোগ

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৫, ০০:৩২

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় কৃষকদের প্রায় ২০০ একর কৃষিজমির চাষাবাদ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। উপায়ন্তর না পেয়ে ওই জমিতে চাষাবাদ করতে প্রশাসন ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়ে কয়েক দফায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন চরবাংলা বিত্তহীন কৃষক সমবায় সমিতির সদস্যরা। সর্বশেষ এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাতে পটুয়াখালী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সহযোগিতা চেয়েছেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে চরবাংলা বিত্তহীন কৃষক সমবায় সমিতির সভাপতি সেরাজ খান বলেন, আমাদের কোনো পৈত্রিক জমি নেই। দীর্ঘ ৩০ থেকে ৩৫ বছর ধরে গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের চরবাংলার কৃষি খাস জমি চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। প্রতি বছর উপজেলা ভূমি অফিস থেকে আমরা চাষের অনুমতি নিয়ে এসব সরকারি খাস জমি চাষাবাদ করছি। মহামান্য হাই কোর্টের নির্দেশে গলাচিপা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমাদের সমিতির ভূমিহীন সদস্যদের নামে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ডিসিআর প্রদান করেন। প্রতি বছরের ন্যায় ওই জমিতে আমরা চাষাবাদ করতে গেলে স্থানীয় ভূমিদস্যু চরবিশ্বাস ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাকের বিশ্বাস, ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মতিন হাওলাদার এবং চর বাংলা ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হাওলাদারসহ ১৪ থেকে ১৫ জন বিএনপির নেতাকর্মীরা মিলে আমাদের ডিসিআরকৃত ওই জমিতে চাষাবাদ বন্দ করে দেয়। পরে আমরা উপায়ন্তর না পেয়ে গলাচিপা থানায় তাদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দাখিল করি।

ওই অভিযোগের তদন্তে গলাচিপা থানার এএসআই জাকির হোসেন বিবাদীদের বিরুদ্ধে ১০৭/১১৭ ধারায় গলাচিপা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। নির্বাহী কোর্ট আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। এতে আসামিরা চলতি বছরের ৬ অক্টোবর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মুচলেকা দিয়েছেন এবং ১৫ জন আসামি ২ হাজার টাকা বন্ডে জামিন নিয়েছেন।

সেরাজ খান আরও বলেন, তারা সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাকের বিশ্বাস ও সাংগঠনিক সম্পাদক মতিন হাওলাদারের লাঠিয়াল বাহিনী হিসাবে পরিচিত। তারা আমাদেরকে এলাকা ছাড়া করার জন্য মারধর ও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। তাদের লাঠিয়াল বাহিনীর আতঙ্কে আমরা বর্তমানে চরবাংলায় যেতে পারছি না। আমরা কৃষক মানুষ, এলাকা ছেড়ে আমরা কৈ যামু। আমরা প্রশাসন ও সাংবাদিকদের সাহায্য চাই।

চরবাংলা বিত্তহীন কৃষক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মজিবর হাওলাদার বলেন, আমাদের সমিতির প্রায় ৭০০ জন সদস্য রয়েছে। এরমধ্যে থেকে ১৫৫ জন্য ভূমিহীন সদস্যকে হাইকোর্টের নির্দেশে ডিসিআর দিয়েছেন উপজেলা ভূমি অফিস। এসব জমি আমরা আগেও চাষাবাদ করতাম। বর্তমানে বিএনপির লোকজন এসব জমি জোরপূর্বক দখল করার চেষ্টা করতেছে, আমাদেরকে চাষাবাদ করতে বাধা দিচ্ছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চরবিশ্বাস ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাকের বিশ্বাস অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চরবাংলায় আমার কোনো জমি নাই। চর বাংলায় একটা সমিতি আছে ওই সমিতি দিয়ে আওয়ামী লীগের কিছু লোক ১৬ বছর ভাইঙ্গা-চুরিয়া খাইছে। ৫ তারিখের পরে কিছু লোক আমার সহযোগিতা চাইছে। আমি এসিল্যান্ড স্যারকে প্রকৃত ভূমিহীনদের জমি দিতে বলছিলাম। প্রকৃত ভূমিহীনদের পক্ষে আমি কথা বলায় সম্মান নষ্ট করার জন্য আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ সম্মেলন করছে আওয়ামী লীগের কিছু লোকজন। আমি এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত না।

গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমরা উভয় পক্ষের বিরোধ নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করছি। এতে বিএনপির কেউ অনিয়ম করে থাকলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

গলাচিপা থানার ওসি আসাদুর রহমান বলেন, যেহেতু কার্ডের জমি নিয়ে সমস্যা, এটা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিষয়। এ বিষয়ে থানায় এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এসএএস