গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত সেনাবাহিনী, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের একাংশ। সংগঠনটি বলেছে, “আইনের শাসনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা কোনো প্রতিষ্ঠানের মর্যাদাহানিকর নয় বরং এটি দায়িত্বশীলতা ও গণতান্ত্রিক আচরণেরই অংশ।”
রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্র ইউনিয়নের এই অংশের সভাপতি তামজিদ হায়দার ও সাধারণ সম্পাদক শিমুল কুম্ভকার এ কথা বলেন।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্ত সামরিক, পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সংঘটিত গুম, খুন, নির্যাতন ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের অভিযোগে তদন্ত শুরু হলেও বিচার কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়।
নেতারা বলেন, এই দীর্ঘসূত্রতা জনগণের ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা হ্রাস করছে এবং দায়মুক্তির সংস্কৃতি পুষ্ট করছে।
ছাত্র ইউনিয়নের বিবৃতিতে জুলাই মাসে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থান প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়, এটি শুধু সরকার পরিবর্তনের সংগ্রাম ছিল না, বরং রাষ্ট্রীয় দমননীতির বিরুদ্ধে জনগণের ঐতিহাসিক প্রতিরোধ। জনগণ একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বপ্ন দেখেছে, কিন্তু গুম-খুনের বিচারে গাফিলতি সেই স্বপ্নকে হুমকির মুখে ফেলছে।
‘গুম কমিশনের’ প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, ১,৮০০ জনের বেশি গুমের অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক কর্মী, নারী ও শিশুরাও রয়েছেন। ‘আয়নাঘর’সহ গোপন বন্দিশালায় এসব মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
ছাত্র ইউনিয়নের দাবি, শেখ হাসিনা সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তারা এসব অপরাধের জন্য সরাসরি দায়ী। গণ–অভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারও গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার অব্যাহত রেখেছে।
সংগঠনের আহ্বান, গুম-খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার। বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত শুরু ও স্বচ্ছ তদন্ত। নিরাপত্তা বাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার বন্ধ।

