মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়ন পরিষদের সভাকক্ষে সভা চলাকালে দুই ইউপি সদস্যের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক সদস্যের ঘুষিতে অপর সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।
রোববার (১২ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ইউপি সূত্রে জানা যায়, সভায় পরিষদের টিআর, কাবিখা প্রকল্পের বরাদ্দ বণ্টন নিয়ে আলোচনা চলছিল। এ সময় হঠাৎ ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ওমর ফারুক সভাস্থলে থাকা ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুর রকিবকে ঘুষি মারেন। ঘুষির আঘাতে রকিবের নাকের হাড় ভেঙে যায় এবং চোখে থাকা লেন্স ভেঙে গিয়ে বাম চোখ রক্তাক্ত হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় সহকর্মী ও আত্মীয়-স্বজনরা আব্দুর রকিবকে মুজিবনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাকে মেহেরপুর সদর হাসপাতালে রেফার করেন।
জানা গেছে, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রিপন হোসেনের সঙ্গে বরাদ্দ বণ্টন নিয়ে আলোচনা করছিলেন আব্দুর রকিব। এ সময় ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ওমর ফারুক হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে বলেন, বণ্টন নিয়ে তোর এত মাথাব্যথা কেন? এরপর অতর্কিতভাবে আব্দুর রকিবকে আঘাত করেন।
আব্দুর রকিব জানান, ওমর মেম্বারের সঙ্গে আমার কোনো ঝামেলা বা কথাকাটাকাটি হয়নি। হঠাৎ এসে আমাকে মারধর করে এবং হাতে থাকা মোবাইল ফোন ও পকেটে থাকা প্রায় ৮ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই মুজিবনগর থানা পুলিশের একটি দল ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিরোধের বিষয়ে বাগোয়ান ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন জানান, সবার সামনেই ঘটনাটি ঘটেছে যা খুবই দুঃখজনক। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করা হয়েছে।
মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন সরকারি মিটিং চলাকালীন সময়ে এই ঘটনায় ওমর মেম্বার এর বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মুজিবনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) জাকির হোসেন জানান, ঘটনাটি শোনার পরে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক আছে। এ বিষয়ে থানায় কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।
