বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুববিষয়ক সহ-সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ বলেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে দেশে ভয়ঙ্কর রাজনৈতিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকা-৭ আসনের কামরাঙ্গীরচর এলাকায় ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে এক পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।
মীর নেওয়াজ আলী বলেন, “বাংলাদেশ যে পথে যাওয়ার কথা ছিল, তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। সরকার আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে—আমরা বিশ্বাস করতে চাই, এই ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অন্যথায়, বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্র আরও ঘনীভূত হতে পারে, যেখানে পার্শ্ববর্তী দেশের এক ভয়ংকর শক্তি কাজ করছে, আর শেখ হাসিনা সেই শক্তির আশ্রয় নিচ্ছেন।”
তিনি অভিযোগ করেন, “দেশবিরোধী শক্তি ও পার্শ্ববর্তী দেশের এক প্রভাবশালী গোষ্ঠী মিলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করছে। শেখ হাসিনার সরকার তাদের স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে।”
ভারতের ভূমিকার সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, “ভারত কখনোই গণতন্ত্র বা স্বাধীনতার পক্ষে ছিল না। নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় তারা সবসময় বাংলাদেশকে ব্যবহার করেছে। তারা এই দেশকে শোষণের ক্ষেত্র হিসেবে দেখে। বর্তমানে তারা আন্তর্জাতিক মহলে প্রচার চালাচ্ছে যে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে—যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। অনেক হিন্দু নাগরিক নিজেরাই সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, ভারতের এসব অভিযোগ সত্য নয়। তাই ভারত সম্পর্কে আমাদের সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বিএনপি, জামায়াতসহ সব রাজনৈতিক দল তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে কথা বলবে। কিন্তু একটি বিষয়ে সবার ঐক্য থাকা জরুরি—তা হলো জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা। জনগণ পরপর তিনটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি, ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, ভোটের নামে তামাশা হয়েছে। তাই আসন্ন নির্বাচনটি হতে হবে স্বচ্ছ, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য।”
কামরাঙ্গীরচরবাসীর উদ্দেশে মীর নেওয়াজ আলী প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “নির্বাচিত হলে কামরাঙ্গীরচরে গ্যাস সমস্যা সমাধান, রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন এবং খেলাধুলার জন্য মাঠের ব্যবস্থা করব।”
উক্ত আলোচনা সভা ও পথসভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য ও সাবেক কমিশনার আনোয়ার পারভেজ বাদল। উপস্থিত ছিলেন সাবেক কমিশনার আবদুল আজিজ, বৃহত্তর লালবাগ থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোতাহার হোসেন বাবলু, লালবাগ থানা ২৫ নং ওয়ার্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাইনুদ্দিন মাইজু, কামরাঙ্গীরচর থানা ৫৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শহিদুল হক, ৫৬ নং ওয়ার্ডের সভাপতি গোলাম রসুল সামিম, সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন স্বপন, ২৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রাসেল, প্রচার সম্পাদক গোলাম মোস্তফা পেয়ারজ, বিএনপি নেতা আরমান হোসেন বাদলসহ বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ।
