পারাপারের একমাত্র অবলম্বন সাঁকোটিও ভেসে গেছে, দুর্ভোগে ৩০ গ্রামের মানুষ

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৫, ১৬:১১

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নের হলিদাবগা খেয়াঘাটে বাঙ্গালী নদীর ওপর স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাঁশের সাঁকোটি বন্যার পানির প্রবল স্রোত ও কচুরিপানার চাপে ভেঙে ভেসে গেছে। এতে নদী পারাপারে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে দুই তীরের অন্তত ৩০টি গ্রামের মানুষ।

অঞ্চলটির মানুষ জানান, যুগ যুগ ধরে খেয়াঘাট দিয়ে কৃষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিনিয়ত ডিঙ্গি নৌকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করে আসছেন। স্থায়ী সেতু না থাকায় প্রতিটি বর্ষা মৌসুমেই এলাকাবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

নদীর পশ্চিম পাশে রয়েছে বাঙালী হাট, জোড়গাছা ইউনিয়ন পরিষদ, রেলস্টেশন, কলেজ, বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও অফিস। পূর্ব পাশে রয়েছে পাকুল্লা ইউনিয়ন পরিষদ, হাটবাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাদি জমি। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও ট্রেনযাত্রীদের প্রতিনিয়তই হয়রানির শিকার হতে হয়।

দুর্ভোগ কমাতে হলিদাবগা গ্রামের বাউল মুকুলের উদ্যোগে এবং যুব সমাজের স্বেচ্ছাশ্রমে গত ১০ মাস আগে নির্মাণ করা হয় ৩০০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি বাঁশের সাঁকো। প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সাঁকোটি রাতের বেলাতেও ব্যবহার উপযোগী করে তোলা হয় বিদ্যুৎবাতির মাধ্যমে।

কিন্তু চলতি বর্ষায় নদীর প্রবল স্রোত এবং ভেসে আসা কচুরিপানার চাপে সম্প্রতি সাঁকোটি ভেঙে যায়। ফলে ফের নদী পারাপারে ভরসা একমাত্র ডিঙ্গি নৌকা, আর দুর্ভোগ বেড়েছে আগের চেয়েও বেশি।

স্থানীয়দের দাবি, খেয়াঘাটটিতে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ হলে অন্তত ৫ থেকে ৭টি ইউনিয়নের মানুষের চলাচলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। এতে বগুড়া শহর ও অন্যান্য এলাকায় সহজে যাতায়াত করা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে সোনাতলা উপজেলা প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান তালুকদার জানান, হলিদাবগা খেয়াঘাটে ৩০০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু হবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি