চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের ফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাত সাড়ে ৩টার পর তোড়জোড় শুরু করতে দেখা গেছে প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্তদের। আর এ কারণে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ব্যবসা অনুষদের কেন্দ্রের সামনে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এত রাত হলেও ফল ঘোষণা না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোটারসহ অনেকেই।
পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অল্প সময়ের মধ্যে হয়তো ফলাফল ঘোষণা করা হতে পারে। তাই, আমাদেরকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এ কারণে কেন্দ্রের সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও ফলাফল ঘোষণা কেন্দ্রের চারপাশে পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্বে রয়েছেন। যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে আমরা প্রস্তুত আছি।'
এদিকে এরই মধ্যে কেন্দ্রের সামনে ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরসহ অন্যান্য প্যানেলের প্রার্থী ও সমর্থকরা জড়ো হয়েছেন।
ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী আসমা বেগম বলেন, ‘ফলাফল ঘোষণা নিয়ে প্রশাসন আমাদের সাথে তামাশা করছে। কারণ, শুরু থেকেই আমাদেরকে বলা হয়েছে, রাত ১১ থেকে ১২টার মধ্যে ফল ঘোষণা করা হবে। কিন্তু রাত সাড়ে ৩টায়ও সেই ফলাফল এখনও ঘোষণা করতে পারেনি প্রশাসন। এর মাধ্যমে তাদের কথার সাথে যে কাজের মিল নেই তা অনেকটা স্পষ্ট। হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে এত রাত পর্যন্ত অপেক্ষায় রাখার কোনো মানে হয় না। এই অবস্থায় সুষ্ঠু ফলাফল প্রকাশ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন সবাই।’
সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে হল সংসদের ভোট গণনা শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ, ব্যবসা ও প্রশাসন অনুষদ ভবন, শহীদ হৃদয় তরুয়া অনুষদ ভবন ( নতুন কলা), প্রকৌশল অনুষদ ভবন, বিজ্ঞান অনুষদ ভবন একযোগে ভোট গণনা শুরু হয়।
সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি অনুষদ ভবনের ১৫টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এরপর শুরু হয় ভোট গণনা।
বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষবার নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯০ সালে। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ২৭ হাজার ৫১৬ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ কবেন। চাকসুতে এবার ভোটার প্রায় ২৭ হাজার ৫১৬ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ১১ হাজার ১৫৬ জন। নির্বাচনে লড়তে প্রার্থী হয়েছেন ৯০৮ জন। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদে মোট ২৬ পদে লড়ছেন ৪১৫ প্রার্থী। একই সঙ্গে ১৪টি হল ও ১টি হোস্টেলে প্রার্থী হয়েছেন ৪৯৩ জন।
কেন্দ্রীয় সংসদে সহসভাপতি (ভিপি) পদে ২৪ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ২২ জন ও সহসাধারণ সম্পাদক পদে ২২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
একেকটি হলে পদসংখ্যা ১৪। সে হিসাবে ১৪টি হল ও ১টি হোস্টেলে মোট পদ ২১০টি। ছাত্রীদের ৫টি আবাসিক হলে ৭০টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১২৩ জন। একজন করে প্রার্থী রয়েছে ১৬টি পদে। সে হিসাবে ৫৩টি পদে ভোট হবে।
চাকসু নির্বাচনে লড়তে প্যানেল হয়েছে ১৩টি। এর মধ্যে ছাত্রদলের প্যানেল; ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’, বামপন্থী ছাত্রসংগঠন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ১০টি সংগঠন মিলে ‘বৈচিত্র্যের ঐক্য’ (৩ পদে কেউ নেই), ছাত্র ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ প্যানেল ‘দ্রোহ পর্ষদ’ (৯টি পদে কেউ নেই) এবং জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের সংগঠন স্টুডেন্ট’স অ্যালায়েন্স ফর ডেমোক্রেসি ও ছাত্র ফেডারেশনের জোটবদ্ধ প্যানেল ‘বিনির্মাণ শিক্ষার্থী ঐক্যের’ মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

