কার্তিক মাসের শুরুতেই ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার গ্রামীণ জনপদ। প্রকৃতি যেন এখনই জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। দূর থেকে দেখলে মনে হয় শিশির ভেজা সবুজ ঘাসের ওপর মুক্তার মতো জমে আছে শিশিরকণা।
সকালের হিমেল হাওয়ায় কৃষকেরা ফুরফুরে মেজাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন মাঠে ফসলের পরিচর্যায়। হালকা শীতের আমেজ আর কুয়াশায় মোড়া পরিবেশ যেন অনেকের কাছেই হয়ে উঠেছে উপভোগ্য।
সোমবার (২০ অক্টোবর) সকালে কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই পানিয়াল পুকুর, সদর ইউনিয়নের কেশবা ও উত্তর দুরাকুটি পশ্চিমপাড়া এলাকার বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে দেখা যায় এমন চিত্র। সারাদিনের তীব্র ভ্যাপসা গরম শেষে গভীর রাত থেকে শুরু হয় হালকা হিমেল হাওয়া। সূর্য ওঠার আগেই ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায় চারপাশ। কোথাও কোথাও শীতও যেন কুয়াশার সাথে মিশে আসছে।
গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে চলছে পিঠা-পুলির আয়োজন। অনেক জায়গায় রাস্তার পাশে বসেছে ভাপা পিঠার দোকান। ভোরবেলা শরীরচর্চায় বের হওয়া লোকজন মনের আনন্দে বসে খাচ্ছেন পিঠা। কেউবা আবার রাস্তার ধারে কিংবা ব্রিজের উপর বসে উপভোগ করছেন প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য।
সোমবার সকাল ৬ টার দিকে কিশোরগঞ্জ বাসষ্টান্ডে ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলার কোরসেফ ইঞ্জিনিয়ারিং এর ব্যাবস্থাপনা পরিচালক মো: সোহেল রানা দম্পতির সাথে কথা হলে তারা জানান, ঢাকায় এখোনো তীব্র গরম গ্রামে শীতের আগমনের কথা শুনে শুরুর বাড়িতে বেড়াতে এসেছি। বর্তমানে গ্রামীন পরিবেশে প্রকৃতি মিশে গিয়েছে। এ যেন এক অপরুপ দৃশ্য। যেটি ঢাকা শহরে সচরাচর চোখে পড়েনা। তাই আমরা ছুটি কাঁটাতে ও শীতের আগমনকে বরন করতে গ্রামে ছুটে এসেছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান হাকিম বলেন, গত দু সপ্তাহ আগে কিশোরগঞ্জে টানা বৃষ্টিপাতের পরেও শীত লক্ষ্য করা যায়নি। কিন্তু কার্তিক মাসের শুরুতেই ঘনকুয়াশায় ঢাকা পড়েছে কিশোরগঞ্জের মাঠঘাট। যেহুতু এ উপজেলা আগাম আলু চাষের সুতিকাগার। সেহুতু আগাম শীত আগাম আলু চাষের জন্য কৃষকদের সৌভার্গের প্রতিক হয়ে আসছে বলে মনে হয়।
