পাবনার ১০ গ্রামের অর্থনীতি থমকে আছে বেহাল সড়কে

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৫, ১৫:৫০

পাবনা শহরের পশ্চিমাঞ্চলীয় চর এলাকা হেমায়েতপুর ইউনিয়নের শানিকদিয়ার মন্ডল মোড়ে কাঁচা বাজার। মানুষ মাত্র সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়কের জন্য ভয়ঙ্কর দুর্দশায় রয়েছেন। ভোর হতে না হতেই জেগে ওঠে এই বাজার। চরাঞ্চলের আশপাশের অন্তত ১০ গ্রাম থেকে প্রতিদিন ভোর রাত থেকে সকাল অবধি কৃষকরা তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন রকম সবজি বাজারে আনেন। একটু বৃষ্টিতে এক হাঁটু কাদা মাড়িয়ে ফসল বাজারে আনতে সীমাহীন দুর্ভোগ কৃষকদের। এতে সঠিক সময়ে উৎপাদিত পণ্য নিয়ে বাজারে না আসতে পারায় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।

বেহাল সড়কের কারণে থমকে আছে ১০ গ্রামের অর্থনীতি। এছাড়া সড়কের দুর্দশার কারণে রোগী নিয়ে সঠিক সময়ে হাসপাতালে না যেতে পারায় ঘটছে দুর্ঘটনা। আশঙ্কাজনক হারে বিদ্যালয়ে কমছে শিক্ষার্থী। এসকল সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে দ্রুতই এ সড়কটি পাকাকরণের দাবি এলাকাবাসীর।

সরেজমিনে দেখা যায়, হেমায়েতপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর, ভগীরথপুর, রতনপুর, জয়েনপুর, বোয়ালগাড়ী ও ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের কয়েকটিসহ অন্তত ১০টি গ্রামের ধু-ধু চরের বালিতে কৃষকের শ্রমে ফলেছে সবুজ সতেজ সবজি। বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে কলাবাগান। সম্প্রতি এসব অঞ্চলের পদ্মার চরে এমন সবুজ বিপ্লবে বদলে গেছে এলাকার কৃষি অর্থনীতি। মরিচ, কলা, কুমড়া, লাউকুমড়া, ঝিঙে, ধুন্দল, কড়লা, মিষ্টিকুমড়া ও মুলা-সহ বিভিন্ন সবিজর আবাদ এখানে। এসকল সবজি হেমায়েতপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে শানিকদিয়ার মন্ডল মোড় পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক হয়ে যেতে হয়। কিন্তু এই সড়কেরই এখন বেহাল দশা।

ভগীরথপুরের জফির মাঝি বলেন, একই গ্রামের কৃষক হাসান বলেন, গাড়িতে করে মাল (সবজি) কী আনবো ভাই, হেঁটে চলার মতো উপায়ই তো নাই। এবড়ো থেবড়ো যাই থাক শুকনা সময়ে তবুও ৫০ টাকার জায়গায় ১০০ টাকা দিলে এক ঝাঁকি সবজি নিতে ভ্যান পাওয়া যায়। কিন্তু বৃষ্টি হলে ৫০০ টাকাতেও সেটা পাওয়া সম্ভব না। ভবানীপুরের কৃষক শহিদুল বলেন, রাস্তা খারাপ হওয়ায় মাথায় করে সবজি বাজারে আনতে দেরি হয়ে যায়। এজন্য ব্যাপারীরা তেমন মাল নেয় না। নিলেও দাও কম দাম।

স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোক্তার হোসেন বলেন, যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, তাকিয়ে দেখেন চারপাশে শুধু সবুজ সবজির খেত। এদের ভোগান্তির শেষ নেই। শুধু কৃষকদের ভোগান্তি নয়। একটা রোগী সঠিক সময়ে হাসপাতালে নেওয়া যায় না। বিশেষ করে ডেলিভারি রোগী নিয়ে বিপাকে পড়তে হয় এখানকার মানুষদের। বাচ্চা ও মায়ের সঙ্গে প্রায়ই ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় স্কুলে উপস্থিতি কমছে। বিশেষ করে মেয়েদের উপস্থিতি খুবই কম। এ অবস্থায় এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সড়কটি পাকা করা হোক এবং ১০ গ্রামের অর্থনীতিকে বাঁচানো হোক।

এ ব্যাপারে পাবনা বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী আফনান আজম ব্রুদ্র ইত্তেফাককে বলেন, এলাকাগুলোতে ব্যাপক পরিমাণ সবজিসহ বিভিন্ন অর্থকরী ফসলের আবাদ হয়ে থাকে। সড়ক না থাকায় কৃষকরা উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে ভোগান্তিতে পড়ছেন। আগামী যে প্রকল্প পরিকল্পনা রয়েছে তাতে এই সড়কটি রাখার চিন্তা করেছি। অনুমোদন পেলে সড়ক নির্মাণ করা হবে।

 
ইত্তেফাক/এসএএস