পদ্মায় গোসল না করতে মাইকিং ও কুমিরকে বিরক্ত না করতে লিফলেট বিতরণ

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৫, ১৯:৪৪

রাজশাহীর পদ্মা নদীতে ছোট-বড় একাধিক কুমির দেখা গেছে। প্রাপ্তবয়স্ক একটি কুমিরের ছবি তুলেছেন এক দম্পতি। ছোট একাধিক কুমির দেখেছেন পদ্মা নদীতে মাছ ধরা জেলেরা। তবে জেলেরা কুমিরের ছবি তুলতে পারেননি। এ অবস্থায় পদ্মা নদীতে গোসল করা থেকে বিরত থাকতে মাইকিং এবং জেলেদের মধ্যে লিফলেট বিলি করা হয়েছে। বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, রাজশাহীর পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রাপ্তবয়স্ক একটি কুমিরের ছবি পেয়েছি। প্রাপ্তবয়স্ক কুমিরের সঙ্গী থাকতে পারে। আবার পদ্মায় জেলেরা ছোট কুমির দেখার দাবিও করেছেন। ফলে বোঝা যায়, পদ্মায় আরও কুমির আছে। তাই আমাদের সচেতন হতে হবে। জলজ প্রাণী জলে থাকবে, বিরক্ত করা যাবে না।’ তিনি বলেন, স্থানীয়রা পদ্মার কুমিরটি তুলে নিতে প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করেছেন। এ জন্য প্রশাসনের পক্ষে ফোন এসেছে। স্থানীয়দের সচেতন করতে আমরা লিফলেট বিতরণ করছি।’ 

তিনি জানান, সম্প্রতি পদ্মার চরে পাখির ছবি তুলতে যান ইমরুল কায়েস ও উম্মে খাদিজা ইভা দম্পতি। তারা বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সহায়তায় পাখির বদলে কুমিরের ছবি তুলে বাড়ি ফেরেন। এর আগে ‘ষাটবিঘা’ চরের রাখাল রাজু আহাম্মেদ গরু চরাতে গিয়ে প্রথম কুমির দেখেন। 

প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক সংস্থার জোট আইইউসিএনের মুখ্য গবেষক এবিএম সারোয়ার আলম জানান, ২০১৫ সালে বাংলাদেশে মিঠাপানির কুমির বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর পাবনায় একটি কুমির পাওয়া যায়। পরে দেশে আরও দু’টি একই প্রজাতির কুমির পাওয়া যায়। ঐ কুমির দু’টি সুন্দরবনের করমজল বন্য প্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে সংরক্ষিত রয়েছে। তিনি মনে করেন, এগুলো বাংলাদেশের নদীতে জন্মানো কুমির নয়। এরা সম্ভবত ভারতের চাম্বুল নদ থেকে পদ্মা নদীতে এসেছে।

লিফলেটে বলা হয়, কুমির হিংস্র স্বভাবের জলচর সরীসৃপ ও মাংসাশী প্রাণী। কুমিরের মাথা সরু ও দীর্ঘ। মুখ ইংরেজি ‘ভি’ আকৃতির। কুমির অর্ধ-জলচর প্রাণী। এরা নদী ও হ্রদের জলে বাস করে। তবে রোদ পোহাতে কুমির ডাঙ্গায় উঠে। প্রধানত মাছ, জলাশয়ের পাখি ও অন্যান্য প্রাণী কুমিরের খাদ্য।

আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত থাকতে কুমিরকে বিরক্ত না করা, শিশুদের নদীর তীরে যেতে না দেয়া, মাছ ধরার সময় সতর্ক থাকা, নদীতে গোসল না করা, ছোট নৌযানে চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখা, রাতে নদী ও তীরে কাজকর্ম সাময়িক রাখতে বলা হয়েছে।

লিফলেটে বলা হয়, কুমির জলজ খাদ্য-শৃঙ্খলায় ভ‚মিকা রাখে। মরা-পচা মাছ ও অন্যান্য মৃত জলজ প্রাণী ভক্ষণ করে কুমির জলজ পরিবেশ দূষণমুক্ত ও জলজ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। বাংলাদেশে বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ অনুযায়ী, কুমির বিরক্ত করা, ঢিল ছোড়া, ক্রয়-বিক্রয়, পাচার, পরিবহন ও হত্যার সর্বোচ্চ শাস্তি পাঁচ বছর কারাদণ্ড অথবা ৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয়দণ্ডের বিধান রয়েছে।

ইত্তেফাক/এএইচপি