'স্তন ক্যান্সারকে আর ভয় নয়, সচেতনতার মাধ্যমে সবাই মিলে করব জয়'— এই স্লোগানকে সামনে রেখে চারজন বাংলাদেশি পর্বতারোহী হিমালয়ের লোবুচে ইস্ট পিক (৬,১১৯ মিটার) জয় করেছেন। পর্বতারোহণের মাধ্যমে স্তন ক্যান্সার সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই বিশেষ অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘রোপফোর পিঙ্ক এক্সপিডিশন ২০২৫’।
দক্ষিণ এশিয়ায়, বিশেষ করে বাংলাদেশে, স্তন ক্যান্সার এখনও এক নীরব ঘাতক। সময়মতো সচেতনতা ও প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণই এ রোগ মোকাবিলার মূল চাবিকাঠি—এই বার্তাই ছড়িয়ে দিতে এই অভিযানে অংশ নেন ছয় তরুণ পর্বতারোহী।
দলটির নেতৃত্ব দেন অভিজ্ঞ পর্বতারোহী আবরারুল আমিন অর্ণব, যিনি এর আগে আইল্যান্ড পিক ও মেরা পিক সফলভাবে আরোহণ করেছেন। দলে আরও ছিলেন ডা. মো. সাইফুল ইসলাম (চিকিৎসক, লেখক ও অ্যাথলেট), ডা. উম্মে হুমায়রা কানেতা (ক্যান্সার সার্জন ও ম্যারাথন রানার), সৈয়দা তানজিনা রহমান শান্তা (পুরস্কারপ্রাপ্ত মার্শাল আর্টিস্ট ও অ্যাডভেঞ্চারার) এবং রিজভী আহমেদ সুপ্ত (স্বেচ্ছাসেবক ও আল্ট্রা ম্যারাথন রানার)।
পাঁচজনের দলটি ১৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে। কাঠমান্ডু থেকে লুকলা হয়ে নামচে বাজার, প্যাংবোচে ও ডিংবোচে হয়ে লোবুচে হাই ক্যাম্পে পৌঁছায়। অভিযানের মধ্যবর্তী সময়ে তারা পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে নাগারজুন পর্বত (৫,০০০+ মিটার) আরোহণ করেন।
অবশেষে ২২ অক্টোবর সকাল ৮টা ৩২ মিনিটে চারজন সদস্য সফলভাবে লোবুচে ইস্ট পিকের শিখরে পৌঁছান। হাই ক্যাম্প থেকে যাত্রা শুরু হয়েছিল রাত ১টা ৪২ মিনিটে।
এই পিঙ্ক অভিযানের পরিকল্পক, ডা. উম্মে হুমায়রা কানেতা বলেন, 'আমাদের এই যাত্রা কেবল একটি শিখর জয়ের গল্প নয়— এটি একটি বার্তা। স্তন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই একা সম্ভব নয়, বরং সবাই মিলে, সচেতনতা ও সহমর্মিতার মাধ্যমেই জয় সম্ভব।'
ডা. মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, 'একজন চিকিৎসক হিসেবে প্রতিদিনের দায়িত্বের মাঝে মানসিক চাপ থাকে। পাহাড়ের মাঝে গিয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্য আমাকে নতুন করে জীবনের মূল্য বুঝিয়েছে। এই অভিযান দেখিয়েছে, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা— দুটোই পেশাগত জীবনের জন্য জরুরি।'
এই অভিযানের পেছনে সংগঠন ‘রোপফোর আউটডোর এডুকেশন’ কাজ করছে, যা একটি অলাভজনক যুব উন্নয়ন সংস্থা। তরুণদের পর্বতারোহণের মাধ্যমে সুস্বাস্থ্য, আত্মবিশ্বাস ও সমাজসেবায় উৎসাহিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা মারুফা হক ও মহিউদ্দিন মাহি জানান, ভবিষ্যতে এই ধরনের সামাজিক সচেতনতামূলক অভিযান আরও বড় পরিসরে আয়োজন করা হবে। তারা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

