দুই বছরেও চালু হয়নি ৩০ কোটি টাকায় নির্মিত জয়পুরহাট ম্যাটস

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৫, ১৭:০২

৩০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ শেষে দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো কার্যক্রম শুরু হয়নি জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় নির্মিত মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস)। ভবন হস্তান্তর হলেও প্রতিষ্ঠানটিতে এখনো নেই আসবাবপত্র, বিদ্যুৎ–সংযোগ কিংবা প্রয়োজনীয় জনবল।

নির্মাণের পর থেকেই অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা ভবনটিতে ইতিমধ্যে চুরির ঘটনাও ঘটেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যক্রম চালু না হলে কোটি টাকার এই সরকারি স্থাপনাটি অযত্ন ও অবহেলায় ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাবে।

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বটতলী এলাকায় অবস্থিত তিনতলা বিশিষ্ট এই ম্যাটস ভবনটি প্রায় দুই বছর আগে নির্মাণ শেষ হয়। ভবনটি হস্তান্তরের পর থেকে সেখানে কোনো কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় ভবনের ভেতরে ধুলো ও ময়লা জমে আছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মিনহাজুল মুকিত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যদি চালু করতেই না পারে, তাহলে কোটি কোটি টাকা খরচ করে এমন ভবন বানানোর কী দরকার ছিল? এটা জনগণের টাকার অপচয়।”

ম্যাটসের অধ্যক্ষ কে এম জোবায়ের গালিব জানান, তাকে গত জানুয়ারিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এখনো অন্য কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ পাননি। তার ভাষায়, “আসবাবপত্র ও বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। প্রয়োজনীয় সুবিধা না থাকায় কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না। বিষয়টি জানিয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, আগামী বছর প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে এখানে রেসিডেনসিয়াল ফিল্ড সাইট ট্রেনিংয়ের কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

জয়পুরহাট সিভিল সার্জন ডা. আল মামুন বলেন, “নির্মাণ কাজ শেষে ভবনটি আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ অধ্যক্ষ নিয়োগ দিয়েছে। তবে আপাতত পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালুর কোনো পরিকল্পনা নেই। সম্ভবত ফিল্ড সাইট ট্রেনিং কার্যক্রমটি আগে শুরু হতে পারে।”

স্বাস্থ্যখাতের অবকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দ পাওয়া এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হয় ৩০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। তবে কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় বিনিয়োগ করা বিপুল অর্থ এখন কার্যত নিষ্ক্রিয়। স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত ম্যাটস চালু করে শিক্ষার্থী ভর্তি ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু না করলে এটি পরিণত হবে “একটি অচল সরকারি স্থাপনায়”।

ইত্তেফাক/এএম