কচুরিপানার দখলে ধনাগোদা নদী, যেনো খেলার মাঠ

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৫, ১৮:২৪

চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ধনাগোদা নদী বছরের বড় সময়ই কচুরিপানায় ভরপুর। বর্ষার ৪ মাস ব্যতীত বাকী ৮ মাস নদীতে কচুরিপানার স্তুপ জমে থাকে। ফলে নদীর বুকে নৌযান চলাচল বন্ধ, এবং স্থানীয় শিশু-কিশোররা সেখানে ফুটবল খেলার মতো আয়োজন করছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর বেলতলী থেকে শ্রী রায়েরচর পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকায় কচুরিপানা জমে আছে। কয়েকটি বালুবাহী বাল্কহেডও কচুরিপানার কারণে নদীতে আটকা পড়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নদীতে অবৈধ ঝাক (মাছ ধরার ফাঁদ) এবং শ্রী রায়েরচর ব্রিজের নির্মাণের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে। নদীটি নাব্য সংকটে পড়ায় ব্যবসায়ীরা স্থলপথে দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে পণ্য পরিবহন করছেন। এক সময় নদীটি ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ যোগাযোগের একমাত্র জলপথ হিসেবে পরিচিত ছিল, যা বর্তমানে বন্ধ।

বর্ষার ৪ মাস ব্যতীত বাকী ৮ মাস নদীতে কচুরিপানার স্তুপ জমে থাকে।

শাহাপুর বাজারের ব্যবসায়ী ওমর আলী বলেন, লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় বাজারে লোকালয় নেই, অনেকেই দোকানপাট বন্ধ করে অন্য পেশায় চলে গেছেন। শিক্ষার্থীরাও নৌ যোগাযোগের অভাবে স্থানীয় স্কুল-কলেজে ভর্তি হতে বাধ্য হচ্ছেন।

প্রবীণ সাংবাদিক মাহবুব আলম লাভলু জানান, নাব্য সংকটের কারণে জলজ প্রাণীর ক্ষতি হচ্ছে এবং সেচের জন্য পানির অভাব দেখা দিচ্ছে, যা কৃষি ক্ষেতেও প্রভাব ফেলছে।

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে কচুরিপানা অপসারণ, অবৈধ ঝাক উচ্ছেদসহ অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি