মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি

৩৬টি সার্জারি শেষে ৯৭ দিন পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে মাইলস্টোন শিক্ষার্থী নাভিদ

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৫, ১৯:৩৩

উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২১ জুলাইয়ের ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী নাভিদের শরীরের ৪৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। এর মধ্যে ৩৬টি অস্ত্রোপচার হয় এবং ২২ দিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) থাকতে হয় তাকে। অবশেষে সুস্থ হয়ে ৯৭ দিন পর বাড়ি ফিরেছে সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী নাভিদ।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) নাভিদকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। ইনস্টিটিউটের যুগ্ম পরিচালক ডা. মারুফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘গত ২১ জুলাই ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় নাভিদের শরীরের ৪৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। সিএমএইচ থেকে পরদিন তাকে বার্ন ইনস্টিটিউটে আনা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরপর দুইবার তার পরিবারকে দুঃসংবাদের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে বলা হয়েছিল।’

এই চিকিৎসক জানান, ছেলেটি মোট ২২ দিন আইসিইউতে ছিল, এর মধ্যে ১০ দিন ছিল লাইফ সাপোর্টে। ৩৫ দিন তাকে হাইডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) রাখা হয়। এরপর ৪০ দিন কেবিনে থাকার পর আজ তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

ডা. মারুফুল ইসলাম বলেন, ‘নাভিদের মোট ৩৬ বার ছোট-বড় অপারেশন হয়েছে। শরীরের ক্ষতস্থানে চামড়া প্রতিস্থাপন হয়েছে ৮ বার। এই ঘটনার অন্য কোনো দগ্ধ রোগীর এত সার্জারি লাগেনি।’

বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘দুর্ঘটনায় পুড়ে যাওয়ার পর নাভিদের ফুসফুসে পানি জমেছিল। এজন্য লাইফ সাপোর্টেও উপুর করে শুইয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এটি খুবই চ্যালেঞ্জিং ছিল।’

ওই ঘটনায় দগ্ধ আরও ৫ শিক্ষার্থী এখনো বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি আছে।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই দুপুরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উত্তরা দিয়াবাড়ির মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি দোতলা ভবনে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার সময় স্কুলের ভবনটিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্টাফ ও অভিভাবক মিলিয়ে দেড় শতাধিকেরও বেশি মানুষ হতাহতের শিকার হন। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ৩১ জন মারা গেছেন এবং বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন আরও ৫১ জন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হালনাগাদ তথ্যে এ কথা বলা হয়।

ইত্তেফাক/এমএএস