সাত উইকেটের বড়ো পরাজয়ের সুবাদে শ্রীলঙ্কার মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন ভেস্তে গেছে বাংলাদেশের। তাই, ক্রিকেটাররা অন্তত শেষ ম্যাচটা জিতে তবেই দেশে ফিরতে চান। সবার নজর এখন আগামীকালকের ম্যাচের দিকে।
ম্যাচটিতে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৯৮ রানে অপরাজিত থাকা মুশফিক বলেন, ‘এখন আমাদের কঠিন সময় যাচ্ছে। কিন্তু এটাই দেখানোর চ্যালেঞ্জ আমরা কতটা কামব্যাক করতে পারি। এটা সবার মাথায় আছে এবং আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। আমাদের লক্ষ্য এখন শেষ ম্যাচে জয়। কারণ বিষয়টা এখন সম্মানের।’
মাঠের পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব না পড়লেও দলের চেষ্টায় কোনো কমতি নেই বলেই মনে করছেন মুশফিক। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই শতভাগ চেষ্টা করছি। ফিল্ডিং এমন একটা বিষয় বাইরে থেকে দেখা যায় কেমন করছে। আমার মনে হয় একটু উন্নতি করলেই আমাদের পুরো দলটাই চাঙ্গা থাকবে। সত্যি কথা বলতে সবারই খারাপ সময় যেতে পারে, এমন না যে তারা চেষ্টা করছে না। অনেক সময় অনেক বেশি চেষ্টা করলেও হয় না। সবাই আলাদাভাবে অনেক চেষ্টা করছে। আমিও সেভাবেই চেষ্টা করি।’
সেঞ্চুরি না করা নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই মুশফিকের। তবে, আক্ষেপ আছে স্কোরটাকে ২৫০-এর ওপরে নিয়ে যেতে না পারার। তিনি বলেন, ‘আমি চেষ্টা করছিলাম দলে ২৫০ রানে নিয়ে যেতে। যেটা তাড়া করা সহজ হতো না। শেষের দিকে আমি মেরে খেলার চেষ্টা করেছি। চাইছিলাম দুই, চার বা ছক্কা মেরে খেলার কিন্তু হয়নি। সেঞ্চুরি করতে পারিনি সেটা নিয়ে আক্ষেপ নেই।’
আরো পড়ুন: ডেঙ্গু নিয়ে আগাম বার্তা আমলে নেয়নি কর্তৃপক্ষ
হারে পুরো দলের মতো মুশফিকও হতাশ। তবে, এতে গেল ৫-৭ বছরের সব অর্জন মিথ্যা হয়ে যায়নি বলেই মনে করছেন তিনি। বললেন, ‘হারটা সব সময়ই হতাশাজনক। আমি যত রানই করি না কেন। বিশ্বকাপের পর এ সিরিজ দিয়ে নিজেদের আলাদাভাবে তুলে ধরার একটা সুযোগ ছিল। যে উন্নতি আমরা বিগত বছরগুলোতে করেছি তা প্রমাণের সুযোগ ছিল। শেষ দুই ম্যাচে হয়ত প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি। তাই বলে ৫ থেকে ৭ বছরের যে উন্নতিটা করেছি, তা শেষ হয়ে যায়নি।’
পরাজয়ের জন্য টপঅর্ডারকে দুষলেন মুশফিক। তিনি বলেন, ‘কখনো কেউই চায় না যে, টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানরা বারবার ব্যর্থ হবে। তারা চেষ্টা করছে এবং আমি আশা করি পরের ম্যাচে তারা ওভারকাম করবে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাটিং করা আমার জন্যও অনেক কষ্টকর। অনেক সময় ঝুঁকি নিতে চাইলেও ব্যাক অফ মাইন্ডে থাকে যে, উইকেট পড়ে গেলে হয়ত বা রানটাও হবে না। পরের দিকে বা শেষের দিকে কেউ তো নেই। তখন কঠিন হয়ে যায়।’
অধিনায়ক তামিম ইকবালও দুষলেন দলের টপঅর্ডারকে। তিনি বলেন, ‘আমরা গুরুত্বপূর্ণ টস জিতেছিলাম। আমরা জানতাম উইকেটে স্পিন ধরবে। আমাদের ভালো শুরু দরকার ছিল। কিন্তু ৫০ রানে ৪ উইকেট হারানোয় সবকিছু অসম্ভব হয়ে পড়ে। আর আমরা যেভাবে বোলিং করেছি তাতে ৩০০ রানও যথেষ্ট হতো না।’
সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় পর দেশের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদ নিল স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। দেশের মাটিতে শ্রীলঙ্কার সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজ জয় ছিল ২০১৫ সালের নভেম্বরে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জিতেছিল শ্রীলঙ্কা। এর পর ছয়টি সিরিজ দেশের মাটিতে খেলে লঙ্কানরা। কিন্তু কোনোটিই জিততে পারেনি দলটি।
ইত্তেফাক/জেডএইচ
