যমুনার ভাঙনে দিশেহারা ৯ গ্রামের মানুষ

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৫, ১৩:৪৬

শুষ্ক মৌসুমেও থামছে না সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা নদীর ভাঙন। ভাঙনের তাণ্ডবে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন উপজেলার সোনাতনী ও গালা ইউনিয়নের নয় গ্রামের মানুষ। চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই এ এলাকায় ভাঙন শুরু হয়ে এখনও অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে পাঁচ শতাধিক বাড়িঘর, দুটি মসজিদ, দুটি মাদরাসা, একটি কবরস্থান এবং শত শত বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বিলীনের পথে রয়েছে ধীতপুর ও কুরসি হাট-বাজারও।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোনাতনী ইউনিয়নের মাকড়া, ধীতপুর, শ্রীপুর, কুরসি, বারপাখিয়া, লোহিন্দাকান্দি এবং গালা ইউনিয়নের বৃহাতকোড়া ও মোহনপুর গ্রামে শুষ্ক মৌসুমেও তীব্র ভাঙন চলছে। যমুনার ভাঙনে প্রতিদিনই বসতবাড়ি ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন এলাকাবাসী। ধীতপুর-কুরসি গ্রামের দুটি হাটের অর্ধেক অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কয়েক দিনের মধ্যেই বাকি অংশও নদীতে তলিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

ধীতপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তার প্রামাণিক, আসমা খাতুন ও চম্পা বেগম জানান, যমুনাপাড়ের জমিতে তারা ধান, বাদাম ও শীতকালীন সবজি চাষ করতেন। ১৯৮৮ সাল থেকে এ এলাকায় ভাঙন চলছে। আমরা অন্তত ১০ থেকে ১২ বার নদীভাঙনের কবলে পড়েছি, বলেন তারা।

কমেলা খাতুন, বাতেন বেপারি, আব্দুর রাজ্জাক সরদার, আব্দুস সামাদ ও মনোয়ারা বেগম জানান, এ পর্যন্ত ১২-১৪ বার আমাদের বাড়িঘর ও জমি যমুনা নদীতে ভেসে গেছে। এখন আবার সেই আতঙ্কে দিন কাটছে।

শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, পাঁচ/ছয় বছরে এ দুটি ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে কমপক্ষে ২৭০ হেক্টর ফসলি জমি যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। গত কয়েক মাসের ভাঙনে ৭০ থেকে ১০০ হেক্টর আবাদি জমি নদীতে বিলীন হওয়ায় কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর বিপরীত পাশেই ৮০/৯০ হেক্টর বালুর চর জেগে উঠেছে। কিন্তু তা এখনও আবাদযোগ্য হয়ে ওঠেনি।

যমুনার ভাঙন তাণ্ডবে এ ইউনিয়নের জমির পরিমাণ কমে যাওয়ায় মানুষজন অসহায় হয়ে পড়েছেন। যে সব ফসলি জমি ভেঙে গেছে, সে সব জমির মালিক তাৎক্ষণিকভাবে চরম ক্ষতির মধ্যে পড়েছেন। কৃষি বিভাগ থেকে তাদের প্রণোদনা দিয়ে এ ক্ষতি কিছুটা লাঘবে সহায়ক ভ‚মিকা রাখছে বলেও জানান তিনি।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, কুরসি-ধীতপুরের ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অপরদিকে ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নিতে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে । তারা ভাঙন এলাকায় দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা করবেন বলে জানিয়েছেন।

ইত্তেফাক/এএইচপি