শরীয়তপুর

সংঘর্ষে পাথরের মতো ককটেল ছুড়লো দু’পক্ষ, আহত ১০

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৫, ২১:০৭

শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবায় মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনার সময় দুই পক্ষের সমর্থকরা একে অপরকে লক্ষ্য করে সমানতালে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণে ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে অন্তত ১০ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে।

সোমবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে পদ্মা সেতু প্রকল্পের পুনর্বাসন এলাকায় আরএস-৬ এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নাওডোবা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আরিফুল ইসলাম ও সাবেক সদস্য কাশেম ব্যাপারীর সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আহতদের জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও ঢাকায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

জাজিরার পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা সূত্র জানায়, পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজার দুই কিলোমিটার পশ্চিমে পদ্মা সেতু পুনর্বাসন এলাকা ৬ অবস্থিত। ওই এলাকাটি নাওডোবা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে অবস্থিত। ওই ওয়ার্ডের সদস্য আরিফুল ইসলাম ও সাবেক সদস্য কাশেম ব্যাপারীর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ রয়েছে। পুনর্বাসন এলাকায় একটি মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে ওই দুই পক্ষের মধ্যে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ঝগড়া হয়। পরবর্তীতে সাড়ে ১২টার দিকে দুই পক্ষের সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে দুই পক্ষের লোকজন দেশি অস্ত্র, রামদা, ঢাল, সুরকি নিয়ে একে অপরকে ধাওয়া করে। ওই সময় দুই পক্ষের লোকজন অন্তত অর্ধশত ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

সর্বশেষ পুলিশ গিয়ে বেলা দেড়টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় অবিস্ফোরিত পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করে পুলিশ।

নাওডোবা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, সাবেক মেম্বার কাশেম ব্যাপারী ও তার লোকজন আমাদের একটি ক্লাব ভেঙে ফেলার জন্য হামলা করেছিল। তখন আমারে লোকজন বাঁধা দিয়েছে। তারা আমার ৫-৬ জন লোককে কুপিয়ে আহত করেছে।

সাবেক ইউপি সদস্য কাশেম ব্যাপারী পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, আরিফুলের লোকজন আমাকে ও আমার লোকজনদের ওপর হামলা করেছে। আমি আহত হওয়ার কারণে কথা বলতে পারছি না। তারা অন্যায়ভাবে হামলা করেছে।

শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, মসজিদ নির্মাণ করা নিয়ে বিরোধে নাওডোবায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে ককটেল বিস্ফোরণ ও দেশি অস্ত্র ব্যবহারের তথ্য পেয়েছি। পুলিশ ওই ককটেলের উৎস খুঁজছে এবং দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের জন্য কাজ শুরু করেছে।

উল্লেখ্য এর আগে রোববার উপজেলার বিলাশপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৬০-৭০টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। একইভাবে গত ৫ এপ্রিল বিলাশপুরে সংঘর্ষ চলাকালে বালতিভর্তি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সারাদেশে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। 

ইত্তেফাক/এপি