ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে আব্দুল করিম (৭৬) নামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে তিন ঘণ্টা গাছে বেঁধে গলায় জুতার মালা পরিয়ে মারধর ও পুলিশে সোপর্দ করার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার পাগলা থানার মশাখালি ইউনিয়নের মুখী গ্রামের শাহ মিসকিন মাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়।
সর্বশেষ বুধবার বিকেলে এ ঘটনায় পাগলা থানা পুলিশ বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিমকে মাদ্রাসা ছাত্রীর বাবা শাহীন ফকিরের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ময়মনসিংহ জেলা আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলা, পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মুখী গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিম ও একই গ্রামের ভুক্তভোগী মাদ্রাসা ছাত্রীর বাবা প্রতিবেশী। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিম ভুক্তভোগী মাদ্রাসা ছাত্রীর বসতঘরে প্রবেশ করে এবং তাকে একা পেয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। এ সময় ওই ছাত্রীর চিৎকারে তার ভাই (শাহ মো. মুহিবুল্লাহ) এসে আব্দুল করিমকে আটক করে।
পরে মাদ্রাসা ছাত্রীর ভাই ও স্থানীয়রা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিমকে গলায় জুতার মালা পরিয়ে মাদ্রাসা ছাত্রীর বাড়িতে একটি গাছের সঙ্গে তিন ঘণ্টা বেঁধে রাখে ও মারধর করে।
খবর পেয়ে পাগলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। এসময় মাদ্রাসা ছাত্রীর পরিবারের লোকজন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিমকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে মঙ্গলবার রাতে মাদ্রাসা ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।
তবে থানা হাজতে থাকা অবস্থায় এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিম। তিনি বলেন, আমরা আওয়ামী লীগ সমর্থক আর অভিযোগকারীরা বিএনপি সর্মথক। এছাড়াও আমার ছেলে ওই মেয়ের বাবার কাছে ২০ হাজার টাকা পেত এবং জমির সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জেরে আমার গলায় জুতার মালা পরিয়ে গাছে বেঁধে রেখে মারধর করে এবং মিথ্যা মামলা করে।
তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার সকালে পার্শ্ববর্তী ভালুকা উপজেলার বিরুনী গ্রামের কৃষি ব্যাংকে যাই। ব্যাংকের কাজ সেরে তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে আসার সময় তাদের লোকজন আমার পথরোধ করে এই ষড়যন্ত্র করে।
মাদ্রাসা ছাত্রীর বাবা শাহীন ফকির বলেন, আমার মেয়ে চলতি বছর দাখিল পরীক্ষায় পাশ করেছে। আমাকে খোঁজ করার নামে আমার বসত ঘরে ঢুকে আমার মেয়েকে একা পেয়ে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিম তাকে শ্লীতাহানির চেষ্টা করে। এ কারণে তাকে আটক করে এলাকাবাসী মারধরের পর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। আমি বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছি।
তবে আব্দুল করিমের গলায় জুতা পরানোর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।
পাগলা থানার ওসি মুহাম্মদ ফেরদৌস আলম বলেন, মাদ্রাসা ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিমকে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে মুক্তিযোদ্ধাকে গলায় জুতার মালা পরানো হয়েছে কি-না সে বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।
