লিবিয়ায় শ্রমিক নির্যাতন-মুক্তিপণ আদায়, মূলহোতা রিফাত গ্রেপ্তার

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৫, ২০:১৪

লিবিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের অপহরণ করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় খন্দকার রিফাত হোসেন (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের বাসাইলের কামুটিয়ায়। 

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে গ্রেপ্তার যুবককে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে সোমবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকার সূত্রাপুর থানার বেগমগঞ্জ লেন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।

নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় ২০২৪ সালের ৭ মার্চ লক্ষ্মীপুর জেলা আদালতে একটি মামলা হয়। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে রিফাতকে। রিফাত লিবিয়াতে একটি চক্রের হয়ে কাজ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনা সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে লিটন হোসেন ওরফে সুমন লিবিয়াতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। সেখান থেকে ইতালি যাওয়ার লক্ষ্যে সে ৭২ হাজার দিনার, যা বাংলাদেশি টাকায় ১৫ লাখ টাকা জমা করে। খন্দকার রিফাত নামে আরেকজন লিবিয়া প্রবাসীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। লিটনের কাছে দিনার থাকার বিষয়টি জানতে পারেন রিফাত। পরে লিবিয়া ও পাকিস্তানি চক্রের সহায়তায় লিটনকে ২০২৪ সালের ২৭ জানুয়ারিতে অপহরণ করেন রিফাত। সেখানে তাকে আটকে নির্যাতন করে ৭২ হাজার দিনার নিয়ে যান। তাকে নির্যাতনের বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও চিত্র তার পরিবারের মোবাইলের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন। এ সময় বাংলাদেশি একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করেন।

এ ঘটনায় গত বছরের ৭ মার্চ লক্ষ্মীপুর আদালতে মামলা করেন ভুক্তভোগী লিটনের মামা মো. আনোয়ার হোসেন। মামলায় লিবিয়ায় থাকা রিফাতের শাশুড়ি ঢাকার সুত্রাপুরের বাসিন্দা আনু আক্তার ও তাদের আত্মীয় দিদার হোসেনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়। পুলিশ হেডকোয়ার্টারের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করে নোয়াখালী পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন। মামলার বিষয়টি জানতে পেরে অপহরণের ২ মাস ২০ দিন পর অপহরণকারীরা লিটনকে ছেড়ে দেয়।

নোয়াখালী পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন কার্যালয়ের (পিবিআই) উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, ঘটনার মূলহোতা রিফাত গত ১৩ মে বাংলাদেশে এসে আত্মগোপনে চলে যান। তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে তাকে আটক করা হয়। রিফাত ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

চাঞ্চল্যকর এই মানবপাচার ও মুক্তিপণের ঘটনার বিষয়ে পিবিআই নোয়াখালী পুলিশ সুপার ফয়জুর রহমান বলেন, মামলাটি পিবিআই নোয়াখালী দীর্ঘদিন ধরে নিরবিচ্ছিন্নভাবে তদন্ত করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় অপহরণকারী চক্রের অন্যতম সক্রিয় সদস্য রিফাতকে গ্রেপ্তারপূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়। অভিযুক্ত রিফাত ঘটনার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্যদেরকেও গ্রেপ্তারের জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে বলে জানান এই কর্মকর্তা। 

ইত্তেফাক/এসএএস